মো. জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ :
সেনবাগের ঐতিহ্যবাহী বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাং নুরুল হুদা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের সভাপতি মুহসিয়া তাবাসসুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ ও একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ নুরুজ্জামান। এ সময় বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য নাজিম উদ্দিন খন্দকার প্রমুখ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাহী অফিসার অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন,আপনাদের সন্তান ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয় অবস্থান করেন ৭/ ঘন্টা অবশিষ্ট সময় তারা আপনাদের কাছে থাকেন। তাই আপনারাই হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষক তাই আপনার ছেলে-মেয়েরা কোথায় যায় কার সঙ্গে মিশে সে দিকে নজর দিতে হবে এবং মোবাইলসহ সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন কম সময় ব্যায় করে সেদিকে নজর দিতে হবে।
নির্বাহী অফিসার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত অভিজ্ঞ অভিভাবকের মাঝে তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিন এক অভিভাবক তার এক সন্তানকে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যান এবং ওই শিশুটি বেশি মিষ্টি খায় বলে মিষ্টি খেতে থেকে নিষেধ করতে বলেন।
এ সময় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাৎক্ষণিক কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনদিন পরে আসতে বলেন। তিনদিন পর ওই অভিভাবক শিশুটিকে নিয়ে ফের হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে গেলে তিনি বাচ্চাটিকে মিষ্টি খেতে নিষেধ করে। এসময় অভিভাবক জানতে চান তিনি তো প্রথম দিনই নিষেধ করতে পারতেন। জবাবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবক কে জানান, তিনি নিজেই মিষ্টি বেশি খেতেন তাই তিনি ওই সময় বলতে পারেননি এই তিনদিনে তিনি মিষ্টি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন এজন্য তিনি আজকে নিষেধ করলেন।
নির্বাহী অফিসার উদাহরণ টেনে বুঝাতে চেয়েছেন মোবাইল ডিভাইজ সহ বিভিন্ন কাজে জড়িত থেকে শিক্ষার্থীদের শাসন করলে হবে না, আগে নিজেরা ওই অভ্যাস থেকে নিজেদেরকে সংশোধন করতে হবে। তিনি মাদক এবং মোবাইল ডিভাইস থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহবান জানান এবং লেখাপড়া মনোযোগী হওয়ার বলেন ও টমাস এডিশনের মতো নাম করা বিজ্ঞানীর মতো ব্যাক্তু হবার জন্য অনুরোধ করেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ বিশিষ্ট বিজ্ঞানী টমাস এডিশনের উদাহরণ তুলে ধরে অভিভাবকদের বলেন, কোন শিক্ষার্থীকে অবহেলা করা যাবে না। আপনারা মায়েরা ইচ্ছে করলে সন্তানকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে তুলতে পারবেন। তিনি বিজ্ঞানী টমাস এডিশনের জীবনের কথা উল্লেখ করে জানান এক হাজারের অধিক বই রচনা করেছেন। কিন্তু তিনি প্রাথমিক শিক্ষা জীবনে যে সময় পড়ালেখা করেছেন ওই সময় তাকে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক একটি চিরকুট দিয়ে স্কুল থেকে বাড়িতে পাঠান তার মাকে দেওয়ার জন্য।
টমাস এডিশন শিক্ষকোর দেওয়া ওই চিরকুটটি মায়ের নিকট দিলে মা চিরকুটু পড়ে অজোর কান্না করেন। এ সময় শিশু টমাস এডিশন মার নিকট প্রশ্ন করেন কেন তুমি কান্না করছো। মা প্রতি উত্তরে ছেলেকে ওই চিঠির মর্ম কথা উল্টো করে বলেন, তোমার স্কুল থেকে যে চিঠিটি দেয়া হয়েছে এতে উল্লেখ করা হয়েছে তুমি খুব মেধাবী ছাত্র তোমাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ওই স্কুলে আর কোন শিক্ষক নেই। তাই আজ থেকে আমি তোমাকে পড়াবো।
দীর্ঘ বছর পর টমাস এডিশনের মায়ের মৃত্যুর পর বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান বিজ্ঞানী টমাস এডিসন বাড়িতে এসে বিভিন্ন জিনিসপত্র খুজতে গিয়ে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া সেই চিঠিটি দেখে পড়েন। এতে তিনি দেখতে পান ওই চিঠিকে লেখা রয়েছে আপনার ছেলো অলস লেখাপড়া পারেনা আপনার ছেলেকে আমার বিদ্যালয় রাখা সম্ভব নয় রাখলে অন্য শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ক্ষতি হবে তাই আজ থেকে আর বিদ্যালয়ে পাঠাবেন না।
তিনি অভিভাবকদের বলেন,টমাসের মায়ের মত আপনারাও আপনাদের সন্তানদের দিকে নজর দিবেন এবং পড়ালেখা করাবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, দার্শনিক নেপোলিয়ান বলেছিলেন তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব। নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন মায়েরাই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, তাই আপনারাই পারেন সন্তানদের শিক্ষিত করতে ভূমিকা রাখতে।