নুশরাত রুমু, সদর : গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রচার-প্রচারণা জোরদারে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের মিনি কনফারেন্স হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ফেরদৌসী বেগমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এতে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও সহজ উপায়ে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এ সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব রয়েছে। এজন্য মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বলেন, তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক মূল্যমানের বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। কিন্তু অনেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিয়মিতভাবে গ্রাম আদালত পরিচালনায় সক্রিয় নন এবং এজলাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা গেলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
জেলা তথ্য কর্মকর্তা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সক্রিয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জানান, জুমার খুতবায় গ্রাম আদালতের প্রচারণার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামীণ জনগণের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমেও এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলমান থাকবে।
গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন বলেন, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালতকে সম্পৃক্ত করাই এ সভার মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ফেরদৌসী বেগম সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ কর্মসূচিতে গ্রাম আদালত বিষয়ে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। প্রয়োজনে গ্রাম আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমন্ত্রণ জানানোরও পরামর্শ দেন।