মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার : যে মানুষটি পরিবারের ভাঙন ঠেকাতে ছুটে বেড়াতেন, আত্মীয়তার বন্ধন টিকিয়ে রাখতে বারবার বসতেন সালিসে সেই মানুষটিকেই শেষ পর্যন্ত ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে।
সোনাইমুড়ীতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন কামাল। পরিবারের অভিযোগ, তাঁরই ভাগিনা মো. ইমাম উদ্দিন ও সহযোগীদের হামলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাঁকে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটেশ্বর ইউনিয়নের দিঘিরজান পশ্চিম বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল হোসেন কামাল উপজেলার নাটেশ্বর গ্রামের শুকুর উল্যাহ মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাগিনা ইমাম উদ্দিনের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। পরিবারের বড়দের একজন হিসেবে বিষয়টি সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন ইসমাইল। ঘটনার রাতেও তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিল পারিবারিক সালিস। সবাই আশা করেছিলেন, বিরোধের অবসান হবে। কিন্তু সেই রাতই হয়ে ওঠে ইসমাইলের জীবনের শেষ রাত।
শালিস শেষে নূর নবীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে ব্যাটারিচালিত রিকশায় রওনা হন ইসমাইল। সঙ্গে ছিলেন আবু তাহের। পথে দিঘিরজান পশ্চিম বাজারের কাছে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় ইসমাইলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। স্থানীয়দের ভাষ্য, যিনি আত্মীয়দের মধ্যে শান্তি ফেরাতে চেয়েছিলেন, সেই মানুষটির মৃত্যু এখন নতুন করে বিভক্ত করে দিয়েছে দুটি পরিবারকে।
এদিকে বাজার এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ফুটেজে লোহার রড হাতে কয়েকজন যুবককে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে অভিযুক্ত ইমাম উদ্দিনও রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের পরিবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই ইসমাইলের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, রাস্তার মধ্যে হঠাৎ এক ব্যক্তি ইট হাতে রিকশার দিকে তেড়ে আসেন। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা পেয়ারা বেগম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ইমাম উদ্দিন, তাঁর বাবা আবু তাহের ও রাজন নামে এক যুবকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ‘যে মানুষটি পরিবার বাঁচাতে গিয়েছিলেন, তাঁকেই আজ হারাতে হলো।’ এই মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানিই নয়, আত্মীয়তার বন্ধনের ওপরও যেন রক্তাক্ত এক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। আরও শক্তিশালী
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।