নিজস্ব প্রতিনিধি : বেগমগঞ্জ উপজেলায় এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইশফাক ইয়াছিন জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আফুলশি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেগমগঞ্জে দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক একটি বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও লাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে ইশফাক ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে অনেকেই তার প্রতি আস্থা রেখে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেনের পর গত ১ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের সব মাধ্যম অকার্যকর রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের বিভিন্নভাবে লাভের আশ্বাস দিয়ে টাকা নিয়েছেন। তারা বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা থেকে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে ইশফাক ইয়াছিনের সুনাম ছিল। ফলে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাও বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতারণা সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনায় ঢাকার একটি আদালতে ইশফাক ইয়াছিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন। তাই দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ইশফাক ইয়াছিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।