নুশরাত রুমু, সদর: সোনাপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে একটি প্রভাবশালী চক্র রেলওয়ের অধিক জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে সোনাপুর রেলস্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে খালি পড়ে থাকা জমির একটি অংশে নিম্ন আয়ের মানুষ ছোট ছোট ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সম্প্রতি রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে এসব দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, উচ্ছেদের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম ওই স্থানে নতুন করে কোনো ধরনের দখল বা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ থাকবে না বলে জানালেও অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি গোষ্ঠী নিজেদের ইজারাগ্রহীতা দাবি করে জমিটি দখলে নেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী যে জমির ইজারার দাবি করছে, উচ্ছেদ হওয়া অংশটি প্রকৃতপক্ষে সেই ইজারার আওতাভুক্ত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও জানিয়েছেন, ইজারাকৃত জমি ও বর্তমানে দখলে নেওয়া জমির অবস্থান এক নয়। সূত্র জানায়, ২০২০ সালে সোনাপুর রেলস্টেশনের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টারের মধ্যস্থতায় একটি পক্ষ রেলওয়ের পূর্ব পাশে প্রায় ১২ শতক জমি কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে ইজারা নেয়। তবে ইজারা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় জমিটি কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পরবর্তীতে উচ্ছেদ অভিযানের পর রেলওয়ের আরও প্রায় ৩৫ শতক জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ শুরু করা হয়। অথচ ইজারার শর্ত অনুযায়ী কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়া জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।
উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, রেলওয়ে জমিটি উন্মুক্ত রাখলে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু উচ্ছেদের পরপরই অন্য ব্যক্তিদের দখলে চলে যাওয়ায় তারা হতাশ। তাদের দাবি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে ইজারা আহ্বান করলে তারাও আবেদন করতে প্রস্তুত ছিলেন।
তাদের আরও অভিযোগ, কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে সীমিত পরিমাণ জমি ইজারা নিয়ে অন্য স্থানের জমি দখল করা অনিয়মের শামিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে খবর পেয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের নতুন স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন।