নুশরাত রুমু, সদর : স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গ্রাম আদালত। তবে পর্যাপ্ত প্রচার ও কার্যকর পরিচালনার অভাবে অনেক মামলাই উচ্চ আদালতে চলে যাচ্ছে। তাই গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
সোমবার (৮ জুন) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ফেরদৌসী বেগম।
জেলা প্রশাসক বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি যথাযথভাবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে। তিনি গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজের অসহায়, পিছিয়ে পড়া নারী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রাম আদালতের সেবা পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উপপরিচালক, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জেলার গ্রাম আদালতের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বলেন, প্রয়োজনীয় ফরম ও নির্দেশিকা সরবরাহের ফলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।