স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে একপর্যায়ে সমতাও ফিরিয়েছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, গতি ও আক্রমণভাগের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দাপুটে সূচনা করেছে জার্মানি।
রোববার (১৪ জুন) হিউস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানরা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের দেখা পায় ইউরোপের পরাশক্তিরা। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স এনমেচা।
তবে শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কুরাসাও। জার্মান রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২১তম মিনিটে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলটি করে দলটি। বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন লিভানো কোমেনেসিয়া। তার গোলে ম্যাচে সমতা ফিরলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে কুরাসাও সমর্থকরা।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জাল খুঁজে নেন নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় জার্মানি। একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও চারটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় জার্মানরা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতায় ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ধরে রাখে ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা।
অন্যদিকে, সাহসী সূচনা এবং ঐতিহাসিক গোল পেলেও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের সামনে শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় কুরাসাওকে। তবে বিশ্বকাপ অভিষেকে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে গোল করার কীর্তি তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
৭-১ গোলের এই বড় জয় জার্মানিকে শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং শিরোপার দাবিদার হিসেবে তাদের শক্তিমত্তারও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুতেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।