নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শতাধিক বাসিন্দাকে বেগমগঞ্জ উপজেলায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দালালচক্র, অসাধু কম্পিউটার দোকানদার এবং নির্বাচন অফিসের কিছু কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ঠিকানা যাচাই ও স্থানীয়তার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কিছু ব্যক্তি বয়স বাড়িয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে তারা ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে সংশোধিত জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করে এবং ভুয়া ঠিকানা ও কাগজপত্র ব্যবহার করে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এ কাজে একটি সক্রিয় দালালচক্র জড়িত রয়েছে। তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে এক জেলার বাসিন্দাকে অন্য জেলার ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দেয়। অভিযোগকারীদের মতে, এভাবে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বেগমগঞ্জে ভোটার হয়েছেন।
তাদের দাবি, এসব ব্যক্তির জন্মস্থান লক্ষ্মীপুর এবং তাদের পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রেও রামগঞ্জ উপজেলার ঠিকানা রয়েছে। অথচ ভোটার নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু জন্মসনদ, নাগরিক সনদ, কর পরিশোধের কাগজ ও জমির খতিয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে এবং কিছু নথি সম্পাদনা বা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও তথ্য গোপন করে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ভোটার তালিকার গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।