নুশরাত রুমু, সদর : জেলাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও মাদককেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধ কিশোরদের বিচরণ, প্রকাশ্যে আধিপত্যের প্রদর্শন এবং একের পর এক সহিংস ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে এবং অনেক সময় অস্ত্র প্রদর্শন ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। জেলার বিভিন্ন দেয়াল ও ভবনে এনটিএস, বিটিআর, কেটিজি, এসআরজি-টু জিরো, এনবিজি-সেভেনটি, ডিএমজিসহ নানা গ্রুপের নামও দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার পর কিশোর গ্যাং ও মাদকের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল দাদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ব্যবসায়ী সেলিম নিহত হন। পরে সেনবাগে এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ফাহিম হত্যাকাণ্ড, বেগমগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ এবং একলাশপুর ও শরীফপুরের সংঘর্ষের ঘটনাও ব্যাপক আলোচিত হয়।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, হরিনারায়ণপুর, মুসলিম কলোনি, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, রাজারামপুর, মাইজদী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। রাত বাড়লে টং দোকান ও নির্জন স্থানে মাদক লেনদেন এবং ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সদর উপজেলার মান্নান নগরের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, একটি মাদকচক্রকে কেন্দ্র করে কয়েকটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে এবং তাদের মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ না করায় সব তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছায় না, তবে অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাং ও মাদকনির্ভর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।