শুনতে অবাক লাগলেও মাত্র ৫১ টাকা দিয়ে পুরো মাস চলতো এমন অভিনেতাও আছে বিনোদন দুনিয়ায়। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক আর তার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৪০ রুপি যেটা বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৫১ টাকা হয় আজকের হিসেবে। আর এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো দায় ছিল তবে ভাগ্য আর আগের মতো নেই তার। নিজের বিশাল প্রাসাদ রয়েছে ১০ একর জায়গার মধ্যে। সেই মানুষই এখন তেলুগু চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা, প্রযোজক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। আর তিনি হলেন মোহন বাবু। পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি অভিন্যের সঙ্গে যুক্ত আছেন সেই সঙ্গে শিক্ষা ও ব্যবসায় তার অবদান অনেক।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, মোহন বাবুর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক ও মঞ্চনাটকের অভিনেতা। তার কাছ থেকেই শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষা পান তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে মোহন বাবুও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৪০ রুপি, আর তার বাবার আয় ছিল ১৮০ রুপি।
অভাবের সংসারেও ছেলের অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণে একটি বিজ্ঞাপন দেখে ৫০ রুপি খরচ করে অডিশনের আবেদন পাঠিয়েছিলেন তার বাবা। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় মোহন বাবুর ভাগ্য। অভিনেতা বিভিন্ন সাক্ষাৎকাতে নিজেই জানিয়েছেন, জীবনের এক পর্যায়ে তার কাছে ছিল মাত্র একটি পোশাক। অনেক রাত কেটেছে শুধু পানি খেয়ে। কিন্তু অভিনয়ের স্বপ্ন কখনো ছাড়েননি।
মোহন বাবু এখন বিশাল বাড়িতে থাকে এটা বলা যায় তার ব্যক্তিগত রিসোর্ট। হায়দরাবাদের জালপল্লিতে ১০ একরের বিশাল এস্টেটজুড়ে রয়েছে সবুজ লন, ব্যক্তিগত খামার, ইনফিনিটি সুইমিং পুল, আধুনিক হোম থিয়েটার, পুরস্কারের গ্যালারি, ব্যক্তিগত বার, সাউনা, স্টিম রুম এবং পারিবারিক স্মৃতিতে সাজানো নানা কক্ষ।
তার মেয়ে লক্ষ্মী মাঞ্চুর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মোহন বাবুর ষষ্ঠ বাড়ি। এর আগে চেন্নাই, তিরুপতি ও হায়দরাবাদে আরও পাঁচটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। বাড়ির প্রধান বসার ঘরে রয়েছে বিশাল ইনডোর ফোয়ারা ও শিব-পার্বতীর একটি বড় শিল্পকর্ম। পুরো বাড়িজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অভিনয়জীবনের অসংখ্য স্মারক ও পুরস্কার।