সাইফুল ইসলাম নিশাত, কবিরহাট : শিক্ষকতা তার পেশা, আর মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার নেশা। শিক্ষার্থীদের তিনি আগলে রেখেছেন নিজের সন্তানের মতো।
শিক্ষা, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, রক্তদান কিংবা অসহায় মানুষের সহায়তা-যেখানেই মানুষের প্রয়োজন, সেখানেই ছিল তার নিরলস পদচারণা। অথচ আজ সেই মানুষটিই জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে সমাজের সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো- তার দুটি ছোট সন্তান এখনো বাবার স্নেহ-ছায়ায় বেড়ে ওঠার অপেক্ষায়। ছয় বছর বয়সী কন্যা নভেরা সাদমীন নার্সারিতে পড়ে এবং সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে ইরাম ফাইয়াজ প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের মা একজন গৃহিণী। শিক্ষকতার চাকরিই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
কবিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম সাজু বর্তমানে অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ক্যান্সারে আক্রান্ত। ৩৫তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সুবর্ণচরের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবকসুলভ মানুষ। পাশাপাশি বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, রক্তদান কর্মসূচি এবং অসহায় মানুষের সেবায় দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগটির জটিলতা সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন।
উন্নত চিকিৎসার সম্ভাবনা যাচাই করতে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছেও তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে আরও বিশেষায়িত মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে ভারত বা থাইল্যান্ডে নিতে হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা, যা তাদের পরিবারের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব।
একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই দেন না, তিনি গড়ে তোলেন একটি প্রজন্ম, আলোকিত করেন একটি সমাজ। সহকারী অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম সাজু সারাজীবন সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। আজ তার জীবন রক্ষার সংগ্রামে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া একান্ত প্রয়োজন।