মোহম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, মর্যাদাপূর্ণ এবং ইসলামী উচ্চশিক্ষার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক পরীক্ষায় উজ্জ্বল সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। ৬০টিরও বেশি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে মেধাতালিকার সেরা দশে স্থান পেয়েছেন চার বাংলাদেশি। তাঁদের একজন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কৃতি সন্তান আবুল কাছেম জোনায়েদ আযহারী, যিনি পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইসলামিক থিওলজি (উসুলুদ্দিন)-এর হাদিস ও উলুমুল হাদিস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের বার্ষিক পরীক্ষার সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে তিনি 'মুমতাজ ফল নিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সেরা দশে চার বাংলাদেশির জায়গা করে নেওয়াকে দেশের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদেরা। আর নোয়াখালীর প্রত্যন্ত গ্রামের এক শিক্ষার্থীর এমন সাফল্যে আনন্দে ভাসছে তাঁর পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
জোনায়েদ আযহারী সোনাইমুড়ী উপজেলার ঘোষকামতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদ, বারগাঁও ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর ও পেয়ারাপুর আল-জামেয়াতুর রহমানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তাজুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ, কঠোর অধ্যবসায় এবং নিরলস পরিশ্রম তাঁকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরাদের কাতারে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর এই অর্জনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জোয়ার বইছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবুল কাছেম জোনায়েদ আযহারী সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি লেখেন, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ। এরপর তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তাঁর মা-বাবার দোয়া, ত্যাগ, স্নেহ ও অনুপ্রেরণাকে। পাশাপাশি ভাই-বোন, ভগ্নিপতি, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলার ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণপুর ও পেয়ারাপুর আল-জামেয়াতুর রহমানিয়া মাদ্রাসার প্রতি। তাঁর বাবা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানেই তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। প্রাথমিক বুনিয়াদি শিক্ষা থেকে ফাজিলাত জামাত পর্যন্ত তিনি এখানেই কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের শিক্ষা ও মেধার ইতিবাচক প্রতিফলন। একজন শিক্ষার্থীর এমন অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গৌরব নয়; এটি তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জন্মভূমি এবং পুরো বাংলাদেশের সম্মানকে আরও সমুন্নত করে।
তাঁদের মতে, আল-আজহারের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে এই সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় আরও বেশি উৎসাহিত করবে।
জেলার একটি গ্রামের শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সেরাদের কাতারে উঠে আসা আবুল কাছেম জোনায়েদ আযহারীর এই অর্জন প্রমাণ করে যোগ্যতা, অধ্যবসায়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। তাঁর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে নোয়াখালীর জন্য গর্বের, বাংলাদেশের জন্য সম্মানের এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।