নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত ত্রাণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন, প্রতিষেধক ওষুধ ও খাবার স্যালাইন মজুদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের দুর্গম ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত রোববার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পোঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, বন্যা আক্রান্ত দেশের ১১টি জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ে এবং অনেক সময় সাপের কামড়ে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এটি প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন এবং পানিবাহিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
ব্রিফিংয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ইনজেকশন মজুদ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে মজুদ রয়েছে আরও ১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম। মাঠপর্যায়ে কলেরার স্যালাইন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি, খাবার স্যালাইন প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। পাশাপাশি নরমাল স্যালাইন রয়েছে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ এবং ডেঙ্গু কিট সিডিসি (মাঠ ও কেন্দ্রীয় মিলিয়ে) ১ লাখ ১৯ হাজার ৯২০টি মজুদ রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জÑএই ৭টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে ৫৯টি উপজেলার ৩ শত ৪৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন এবং ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা নাগরিকদের অনতিবিলম্বে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে খাদ্যশস্যের কোনো সংকট নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছেন।
ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থেকে ক্ষয়ক্ষতির তদারকি করছেন।