মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের দিঘীরজান বাজার এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ, সীমানা বেড়া ভাঙচুর এবং দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমিতে প্রবেশের পাশাপাশি সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে তাদের চলাফেরা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এমনকি ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা এবং আইনগত প্রতিকার চেয়ে সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
অভিযোগপত্র, জমির দলিল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটেশ্বর ইউনিয়নের দিঘীরজান বাজার এলাকার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, ১৯৯০ সালের একটি এওয়াজকৃত দলিল অনুযায়ী তারা জমিটির অংশীদার। পরে জমির একটি অংশ বিনিময় করা হলেও অবশিষ্ট অংশের মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে বিরোধপূর্ণ সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৫ জুলাই দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে সীমানা বেড়া ভেঙে ফেলেন। পরে সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করেছে। আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের আদেশ কার্যকর রাখা এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।