মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। আগামী রোববার তিনি মাঠে বসেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি উপভোগ করবেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত ফিফার একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ট্রাম্প। এরপর রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
লেভিট আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দর্শকপ্রিয়, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটবে।
এর মাধ্যমে গত মাসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দেওয়া ইঙ্গিতেরও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিততা মিললো। ২৩ জুন ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফাইনাল উপভোগ করবো এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবো।’
বিশ্বকাপের ফাইনালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। কাতার ২০২২ ও রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপেও রাষ্ট্রপ্রধানরা ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১০২টি ম্যাচের কোনোটিতেই ট্রাম্প বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ফুটবল দলের ম্যাচে প্রশাসনের কয়েকজন মন্ত্রিসভার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১৯৯৪ সালে একবার পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা ট্রাম্প এর আগেও সুপার বোল, ইউএস ওপেন টেনিস, রাইডার কাপ ও ডেটোনা ৫০০-সহ একাধিক বড় ক্রীড়া আসরে উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত একটি ইউএফসি ইভেন্টে অংশ নেন। এছাড়াও নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে নিউইয়র্ক নিকস ও সান আন্তোনিও স্পার্সের মধ্যকার এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচও উপভোগ করেন।
গত গ্রীষ্মে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প। ম্যাচ শেষে চেলসি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সময় তিনি মঞ্চেও ছিলেন।
গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। এ সময় তিনি ট্রাম্পের হাতে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কারও তুলে দেন।