মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে এক প্রতিবন্ধীর পরিবারিক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দখলকৃত জমিতে চলছে নির্মাণ কাজ। নিষেধ করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হয় হত্যার হুমকি।
এবিষয়ে রবিবার (১৮ জুলাই) সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। অভিযুক্তরা হচ্ছেন একই বাড়ির জসিম উদ্দিন (৫০), ফাহাদ হোসেন(২৪), আবুল হোসেন (৫৫) ও তার ছেলে রাকিব হোসেন।
জানা যায়, উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের কুমারঘরিয়া ছমদ মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা শারিরিক প্রতিবন্ধী ষাটোর্ধ সেতারা বেগম। গত দু'বছর পূর্বে মারা গেছেন তার স্বামী গোলাম মোহাম্মদ। একমাত্র ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন প্রবাসের মাটিতে ষ্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এমতাবস্থায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তির ১৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করছেন একই বাড়ির আবুল হোসেন গং। এবিষয়ে অসহায় প্রতিবন্ধী সেতারা বেগম বাদি হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করায় খুন করার হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পরে প্রতিবন্ধীর পুত্রবধু ফরিদা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদা বেগমের স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। তিনি সেখানে কর্মরত অবস্থায় স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শ্বশুর দু'বছর পূর্বে মারা গিয়েছেন আর শ্বাশুড়ি শারিরীক প্রতিবন্ধী। বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় প্রতিবেশী আবুল হোসেনগং জোরপূর্বক তাদের ১৫ শতাংশ জমি দখল করছেন। জমিতে থাকা গাছ কেটে টিনদিয়ে ঘিরে সেখানে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। এবিষয় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা অভিযুক্তরা।
বাঁধা দিলে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে নিরাপত্তা ও জমি দখল বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছে অসহায় পরিবারটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ১৫ শতাংশ জমি টিন দিয়ে ঘেরা দেওয়া হয়েছে। জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নেওয়া হয়েছে। সেখানে চলছে ভবন নির্মাণের কাজ। এসময়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করলে বাঁধা দেয় আবুল হোসেন গং। সাংবাদিদের সাথে কথা বলায় উপস্থিত বাসিন্দাদের সাথে মারমুখী আচরণ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের কোন পুরুষ না থাকায় তাদের সাথে অবিচার হচ্ছে। অভিযুক্তরা কারো কোন কথা শোনেনা। আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশ আসলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে। পরে চলে গেলে আবার শুরু করে। এবিষয়ে কেউ কথা বললে তাদের সাথে মারমুখী আচরণ করে দখলদারেরা। যারা দখল করছে তাদের বৈধ কোন দলিল নেই। গায়ের জোরে সবকিছু করছে।
এসময় ফরিদা বেগম বলেন, তার স্বামী প্রবাসে গিয়ে কর্মরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরিবারে অন্য কোন পুরুষ সদস্য নেই। এই সুযোগে আবুল হোসেন ও তার লোকজন অবৈধ ভাবে জমি দখল করেছে। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। কথা বললে তাদের গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবার নিয়ে তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্তরা জানান, আদালত তাদের নোটিশ করেছে। তবে জমিটি তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। এসময় প্রতিবেদক জমির দলিলের কপি দেখতে চাইলে তা আদালতে আছে বলে দাবি করেন তারা।
সোনাইমুড়ী থানার এসআই দ্বীন মোহাম্মদ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মামলা চলমান অবস্থায় জোরপূর্বক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিবাদীপক্ষের আচরণ উচ্ছৃঙ্খল। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।