মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে চাঁদাবাজি, দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা একটি সিআর (কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার) মামলায় প্রধান আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মলংমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম ২০২৩ সালের ১৯ এপ্রিল নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত, সোনাইমুড়ীতে সিআর মামলা নং-১৮৯/২০২৩ দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৮০, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় জয়াগ ইউনিয়নের নূর আলম, শওকতসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফিরে নিজের ও প্রবাসী ছেলের উপার্জিত অর্থে জয়াগ বাজারে কয়েকটি দোকানঘর ক্রয় করেন। দোকান কেনার পর থেকেই আসামিরা তার ও ভাড়াটিয়াদের কাছে চাঁদা দাবি করতে থাকেন। ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ বিকেলে প্রধান আসামির নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বাদীর মালিকানাধীন দোকানের সামনে এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের টাইলস, স্টিলের সামগ্রী, টিন, গ্রিল, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বাদীকে অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ঘটনার পর তিনি সোনাইমুড়ী থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি আমলে নিয়ে প্রধান আসামি মোহাম্মদ নূরুল আলমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরোয়ানা বাস্তবায়নের জন্য সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নূরুল আলম বলেন, "এ ধরনের কোনো মামলার বিষয়ে আমার জানা নেই। বাদীকেও আমি চিনি না। আমার কাছে এ মামলার কোনো কাগজপত্র বা গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছেনি।"
বাদীপক্ষের দাবি, বর্তমানে আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দোকানঘর এখনও তাদের দখলে রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জয়াগ উত্তর বাজারে একটি দোকান দখল এবং জয়াগ বাজারের দীঘি লুটসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অতীতেও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলায় উত্থাপিত সব অভিযোগ অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।