মো. জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ : সেনবাগ উপজেলায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, পাসের হারের ভিত্তিতে শীর্ষ তিনটি স্থানই দখল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাসের হারও পাওয়া গেছে একটি মাদ্রাসায়।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিজবাগ রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসা পাসের হারে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৩ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাইজদিপুর আশরাফুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এখান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে বসন্তপুর ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
এরপর রয়েছে ছাতারপাইয়া ইসলামিয়া কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা, যেখানে ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩ জন পাস করে পাসের হার ৬৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। তাহিরপুর তামিরুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ৫৮ জনের মধ্যে ৩৮ জন উত্তীর্ণ হয়ে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং চিলাদি বালিকা আলিম মাদ্রাসায় ৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন পাস করে পাসের হার ৬৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার পাওয়া গেছে কানিকরহাট ফাজিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটির ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
এ ছাড়া কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
সরকারি ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেনবাগ ফাজিল মাদ্রাসা, ছমির মুন্সির হাট দাখিল মাদ্রাসা, কুতুবেরহাট দাখিল মাদ্রাসা, বসন্তপুর ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা এবং চিলাদি বালিকা আলিম মাদ্রাসা থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং মোহাম্মদ আবদুল আলী উচ্চ বিদ্যালয়** থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, পাসের হারে শীর্ষ তিনটি প্রতিষ্ঠানই মাদ্রাসা হলেও জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার খুবই কম, সেখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ফলাফল উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।