স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬ সালের অনলাইন মূল্যায়নভিত্তিক তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের নাম। দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ২০২৬ সালের মূল্যায়নভিত্তিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট। তালিকায় ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠানের পরেই স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠান। এরপর রয়েছে পাকিস্তান ও নেপালের বিভিন্ন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
প্রকাশিত ওই তালিকা অনুযায়ী, প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারতের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই), পুনে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই), কলকাতা এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে হুইসলিং উডস ইন্টারন্যাশনাল (ডব্লিউডব্লিউআই), মুম্বাই। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের পাঠশালা। তালিকায় পাকিস্তানের ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টস (এনসিএ), বীকনহাউস ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (বিএনইউ) ও ইউনিভার্সিটি অব লাহোর এবং নেপালের অস্কার ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব ফিল্ম স্টাডিজ, নেপাল ফিল্ম ক্যাম্পাস ও কান্টিপুর ফিল্ম একাডেমির নামও রয়েছে। পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা ড. শহীদুল আলমের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে উনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু পাঠশালার, ফটোগ্রাফি, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং ও মিডিয়া শিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে পাঠশালা। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও ভিজ্যুয়াল অ্যাক্টিভিস্ট ড. শহীদুল আলম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন।
পাঠশালা শুরুতে ফটোগ্রাফি ও ফটোসাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, মাল্টিমিডিয়া ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের বিস্তৃত ক্ষেত্রে কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে।
বর্তমানে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র-টেলিভিশন—দুই ক্ষেত্রেই একাডেমিক ও পেশাগত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগটি চলচ্চিত্র ও মিডিয়া শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেয়।
পাঠশালার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রোগ্রামটি দেড় বছর বা তিন সেমিস্টারের। এতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা, ভিডিও সম্পাদনা, গতিচিত্র নির্মাণ, সৃজনশীল চলচ্চিত্র প্রযোজনা, শব্দ পরিকল্পনা ও সংগীত, রঙ বিন্যাস, উন্নত সম্পাদনা, সংবাদ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা এবং ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের মতো পেশাগত ও উন্নত কোর্সও রয়েছে।
ফলে একজন শিক্ষার্থী শুধু ক্যামেরা পরিচালনা নয়; বরং গল্পের ধারণা তৈরি, চিত্রনাট্য, পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, শব্দ, রঙ বিন্যাস ও অভিনয়সহ চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান।
ফটোগ্রাফি শিক্ষার ক্ষেত্রেও পাঠশালার রয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। প্রতিষ্ঠানটির চার বছর মেয়াদি ফটোগ্রাফিতে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান প্রোগ্রাম রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, প্রামাণ্যচিত্রধর্মী ও বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ফটোগ্রাফি শিক্ষার অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৯৮ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পাঠশালার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক সংযোগ রয়েছে। পাঠশালার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের বর্তমান অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে পাঠশালার ফটোগ্রাফিতে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে দেড় বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির মাধ্যমে চালুর কথা জানানো হয়েছিল।
দেশের গণমাধ্যমে পাঠশালার শিক্ষার্থীদের অবদান রয়েছে, দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের পথচলায় পাঠশালা শুধু শিক্ষার্থী তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক আলোকচিত্রী, ফটোসাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, টেলিভিশনকর্মী, ভিডিও সাংবাদিক ও অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মী দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সৃজনশীল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
ফলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে আলোকচিত্র, ভিডিও সাংবাদিকতা, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং ও চলচ্চিত্রভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের বিকাশেও পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীদের অবদান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত এসব পেশাজীবীর মাধ্যমে পাঠশালার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রভাব বাংলাদেশের মিডিয়া সেক্টরেও দৃশ্যমান হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। সেই পরিসরে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে মূল্যায়নভিত্তিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রাখা দেশের মিডিয়া ও ভিজ্যুয়াল আর্টস শিক্ষার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯৮ সালে ফটোগ্রাফি শিক্ষাকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করা পাঠশালা সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, মাল্টিমিডিয়া ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের বিস্তৃত শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্যেও পাঠশালাকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী ফটোগ্রাফি ও মিডিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল্যায়নভিত্তিক ওই তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে পাঠশালার নাম উঠে আসা তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া শিক্ষার অগ্রযাত্রার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।