উপজেলা সংবাদদাতা, সদর : জেলার মাইজদী শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু স্টেডিয়াম এলাকাই নয়, মাইজদী শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা জমে ছোট-বড় ভাগাড়ের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় এসব ময়লা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগজীবাণু ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্টেডিয়ামের পাশে রয়েছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ময়লার স্তূপের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদেরও চরম অস্বস্তিতে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলেও তা নিয়মিত অপসারণ করা হচ্ছে না। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। দ্রুত এসব ময়লা অপসারণ এবং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্টেডিয়ামে খেলা বা বড় কোনো অনুষ্ঠান থাকলে পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে ওঠে। তখন বিপুলসংখ্যক দর্শক ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে। স্টেডিয়ামের প্রবেশপথের কাছাকাছি ময়লার ভাগাড় থাকায় দর্শনার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পৌর কর্তৃপক্ষের নয়; নাগরিকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, মাইজদী শহরকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব রাখতে দ্রুত শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি জোরদার করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।