শাহরিয়ার আলম, নোবিপ্রবি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষকে ‘দুই হলের শিক্ষার্থীদের মারামারি' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের এমন ভূমিকা ও বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য বিকৃতির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
জানা যায়, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট নোবিপ্রবিতে ঘটে যাওয়া সহিংসতাটি মূলত ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে সূত্রপাত হয়। তবে ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যের ৯ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে একে ‘ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার মারামারি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার সমালোচনা করে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, ‘সহকারী পরিচালক ইফতেখার হোসেন সাহেব ছাত্রদলের মারামারিকে ২ হলের শিক্ষার্থীদের মারামারি বলে চালিয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতা কীভাবে দেখান? ৯ নং পয়েন্ট সংশোধন করুন।’
এর জবাবে জনসংযোগ বিভাগ দাবি করে, ১৭ ও ১৮ তারিখের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জারি করা অফিস আদেশে ‘দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার মারামারি’ উল্লেখ ছিল। জনসংযোগ বিভাগ নিজস্ব থেকে কিছু লেখেনি, বরং অফিস আদেশের সূত্র ধরেই বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম প্রশাসনের এমন ব্যাখ্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ধামাচাপা দিতে এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতেই প্রশাসন কৌশলে দুই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া দুই হল থেকে ইতোমধ্যে দুটি স্মারকলিপি এসেছে। এ নিয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে কার কতটুকু দায় ছিল।”
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “তথ্যটি রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং জনসংযোগ বিভাগ সেটিই প্রচার করেছে। আমি এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলব।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত অফিস আদেশে (স্মারক নং: নোবিপ্রবি/রেজি/প্র-শা/অফিস আদেশ/২০২৬/১০৪৯৯) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম দফায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও পরে আরও তিন কার্যদিবস সময় আরও বাড়ানো হয়, যার গত ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শেষ হয়। আগামী রবিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।