উপজেলা সংবাদদাতা, সদর : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মাইজদীতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই মাইজদী শহরে ছিল আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সনাতন ধর্মচর্চা ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০টার দিকে মাইজদী বাজারের রাম ঠাকুর আশ্রম থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বিভিন্ন বয়সী ভক্ত, ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শান্তনু কুমার দাশ এবং সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। এছাড়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপ্লব দাস, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তর সম্পাদক হৃদয় দাসসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাম ঠাকুর আশ্রম থেকে শুরু হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি মাইজদী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে গণপূর্ত ভবনের সামনে দিয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় রাম ঠাকুর আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরার কারাগারে দেবকী ও বাসুদেবের ঘরে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, তিনি ভগবান বিষ্ণুর অবতার এবং পৃথিবীতে অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্মের অবসান ঘটিয়ে ন্যায় ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল।
জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, নামসংকীর্তন, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি এর মধ্যে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তির গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।