মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীর এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। এমপিও ভুক্ত শিক্ষকেরা চালাচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, কেউ প্রতিষ্ঠাতা আবার কেউ কেউ শেয়ারভিত্তিক লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি এমপিও নীতিমালা ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনাইমুড়ীর কাশীপুর মুহাম্মাদীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার গণিত বিষয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ রহিম উল্যাহ (বিএসসি) একটি বাণিজ্যিক লিমিটেড কোম্পানির নির্বাহী পদে বহাল রয়েছেন। 'ওয়াসেফপুর আল-ফালাহ মডেল লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম.ডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এর পাশাপাশি তিনি 'আল-ফালাহ মডেল হাই স্কুল'-এর পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং 'সোনাইমুড়ী আইডিয়াল মাদ্রাসা'-এর পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকারি এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক লাভজনক বা বাণিজ্যিক লিমিটেড কোম্পানির নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ পদে অবস্থান করা স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
অন্যদিকে, আমকি মহিলা আলিম মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত আরবি প্রভাষক মাওলানা নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি আমকি মহিলা আলিম মাদ্রাসায় এমপিওভুক্ত প্রভাষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করার পাশাপাশি সোনাইমুড়ী আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত পদে থেকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন বা প্রশাসনিক প্রধান পদে চাকরির সুযোগ নেই। এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক লাভজনক ব্যবসায়িক পদে নিযুক্ত হলে বা দ্বৈত চাকরিতে লিপ্ত থাকলে তার সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) বাতিল, উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
এবিষয়ে মোহাম্মদ রহিম উল্যাহ জানান, ৬০ জন সদস্যের উদ্যোগে আল-ফালাহ মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে৷ সোনাইমুড়ী আইডিয়াল মাদ্রাসার সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই দুটি পদই অলাভজনক। তবে আল-ফালাহ মডেল লিমিটেডের এমডির বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি ৪-৫ মাস পূর্বে আমকি মহিলা আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে সোনাইমুড়ী আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমান পদ থাকলেও ওই আইডিয়াল মাদ্রাসায় সময় দেন না। সেখানে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দ্বৈত চাকরিতে লিপ্ত থাকার বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর মোঃ মোহতাছিম বিল্লাহ জানান, এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়মবহির্ভূত। অভিযোগ কিংবা গণমাধ্যমে তথ্য পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।