মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্ট : সোনাইমুড়ীতে এতিমখানার অনিয়ম ও সরকারি টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ফয়েজিয়া এতিমখানার দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে 'দৈনিক নোয়াখালীর কথা' পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার গোলজার হানিফ এবং 'ভোরের চেতনা' পত্রিকার সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি মোঃ মনিরুজ্জামানের ওপরে এই হামলা চালানো হয়। সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানার মোহতামিম মোঃ শফিকুর রহমান সহ একদল সন্ত্রাসীর এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী থানায় ফয়েজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসার মোহতামিম শফিকুর রহমান সহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে সোনাইমুড়ী চৌরাস্তার চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী শফিকুর রহমান হেফাজতে ইসলামের নোয়াখালী জেলার নায়েবে আমীর ও সোনাইমুড়ী উপজেলার ওলামা দলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে তিনি ফয়েজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসার মোহতামিম ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হামলার শিকার মোহাম্মদ হানিফ জানান, সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিম খানার দুর্নীতি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মোহতামিম এবং একই সাথে মাদ্রাসা কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন মোঃ শফিকুর রহমান। ওই এতিমখানায় ভুয়া খরচ দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিবাদীরা তাদেরকে এই বিষয়ে আর কোন সংবাদ প্রকাশ না করার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় সাংবাদিকদের ওপরে তারা ক্ষিপ্ত হয়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে জানিয়ে মুঠোফোন সাংবাদিকদের চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারের ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নুরুল আলম ও বাদশা সহ ১৫-২০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার শিকার আরেক সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জানান, তাদের ওপরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এসময় মোবাইল বের করে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার তিনটি মোবাইল এবং নগদ প্রায় ১৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে দু'জনই নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।