দাগনভূঞা প্রতিনিধি : দাগনভূঞা একাডেমির হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন নিবিরের পাশে দাঁড়ালেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।
ইসমাইলের পিতা মোঃ সুজন একজন ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা। ইসমাইল এবার এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৫ অর্জন করে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পরও তার মুখে নেই স্বস্তির হাসি। সামনে কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, পোশাক ও যাতায়াতের খরচ কীভাবে জোগাড় হবে- তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের নজরে আসলে দাগনভূঞার ইউএনও মোঃ শাহীদুল ইসলামকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বইপত্র, ড্রেস, কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা করে দেন জেলা প্রশাসক।
শিক্ষার্থী ইসমাইলের পিতা দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ ফেরি করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে ৪ সদস্য পরিবারের খরচ চালানো কষ্টসাধ্য। তার অপর ছেলেটিও দাগনভূঞা একাডেমিতে পড়ে। তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার হাট ভোগদিয়া এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন যাবত দাগনভূঞা পৌর শহরের বেতুয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
শিক্ষার্থী ইসমাইল বলে, আমার এ পর্যন্ত আসার পথটা সহজ ছিল না। অভাবের সংসারে বাবা-মায়ের পক্ষে আমার পড়ালেখার খরচ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। একটা সময়ে টাকার অভাবে আমার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ায় উপক্রম হয়েছিল। আমার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।
আমি সুযোগ পেলে বাবার পেশাগত কাজে সহযোগিতা করতাম। রোজগারের চেষ্টা করতাম। এভাবেই আমি চালিয়ে যাই পড়ালেখা। বাবা-মা ও স্যাররা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমার স্বপ্ন আমি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই এবং ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই।
আমি চাই লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষের সেবা করতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। জেলা প্রশাসক স্যার ও ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় গতকাল রোববার আমি ফেনী সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছি। জেলা প্রশাসক স্যার ও ইউএনও স্যারকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁরা আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং বইপত্র, ড্রেস ও কলেজে ভর্তির যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
ইসমাইলের পিতা মোঃ সুজন আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, আমার ছেলে কঠোর পরিশ্রম করে জিপিএ ৫ পেয়েছে। আমার অনেক আনন্দিত। আমি অত্র বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের কাছে আজীবন ঋণী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ইসমাইল হোসেন নিবির এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। শিক্ষার্থীটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। তার পিতা একজন হকার। দুই ভাই দাগনভূঞা একাডেমিতে পড়াশোনা করে। দুজনেই মেধাবী। পড়াশুনার পাশাপাশি এই শিক্ষার্থী তার বাবাকে ব্যবসায় ও সহযোগিতা করে। অত্যন্ত কষ্ট করে এই শিক্ষার্থীর জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। তার জীবনে উচ্চকাঙ্খা থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তার কিছু অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজন আছে। দাগনভূঞা একাডেমি সিরাজুম মুনিরা সোসাইটি প্রতি মাসে ৩০০ টাকা বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সামান্য হলেও তার পড়াশোনার গতিকে ত্বরান্বিত করবে। আমি তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যার আন্তরিকভাবে দেখেছেন। তাঁর ঐকান্তিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন নিবির কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখব।