স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ীতে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে শারমিন আক্তার শিবলী (৩৫) নামে চার সন্তানের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
বিষপানের পর তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের কারণে তিনি বিষপানে বাধ্য হয়েছেন। শনিবার উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিলমুদ পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন।
নিহত শারমিন আক্তার শিবলী বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রামের মো. সেলিমের মেয়ে। তিনি বজরা ইউনিয়নের প্রবাসী জাকির হোসেন সেলিমের স্ত্রী। তার চার সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারমিনের সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ চলছিল। স্বামী প্রবাসে থাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে তিনি নানা ধরনের মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নিহতের ভাই বিজয় বলেন, ‘আমার বোন অনেক যন্ত্রণার মধ্যে ছিল। কতটা মানসিক কষ্ট থাকলে চার সন্তানের মা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা সহজেই বোঝা যায়। এ ঘটনার পেছনে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির প্ররোচনা ও নির্যাতন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
নিহতের বাবা মো. সেলিম অভিযোগ করে বলেন, ‘দুপুরে ফোন করে আমাদের জানানো হয়, শারমিন বিষ খেয়েছে। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আমরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মেয়েকে ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখি। তখনও তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। আমরা হাসপাতালে নিতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাধা দেয়।’
নিহতের মা বেবি আক্তার বলেন, ‘সময়মতো চিকিৎসা দেয়া হলে আমার মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব হতো।’
তবে নিহতের পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বামী জাকির হোসেন সেলিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।