মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার : নোয়াখালীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ওপরে হামলার ঘটনায় মামলা নিচ্ছেনা সোনাইমুড়ী থানার ওসি। পরিকল্পিত ভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে হামলার সিসি টিভি ফুটেজ। উপজেলার চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে 'দৈনিক নোয়াখালীর কথা' পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এবং 'ভোরের চেতনা' পত্রিকার সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি মনিরুজ্জামানের ওপরে পরিকল্পিত ভাবে হামলা করা হয়। ঘটনার রাতে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা থানায় উপস্থিত হলেও মামলা নেয়নি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ কবির হোসেন। লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা যায়, চলতি মাসের ৪ তারিখ স্থানীয় এবং জাতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ফয়েজিয়া এতিমখানার দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যেখানে কাগজে-কলমে ভুয়া এতিম ও জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকে ক্যাপিটেসন গ্রান্টের অর্থ আত্মসাতের তথ্য-প্রমান তুলে ধরা হয়। ফলে ওই এতিমখানার মোহতামিম মোঃ শফিকুর রহমানে সাংবাদিকদের ওপরে ক্ষিপ্ত হন। পরে এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে আর কোন সংবাদ প্রকাশ না করতে নানা তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তথ্যের সত্যতা যাচাইএর অযুহাতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চান এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। ঘটনার রাতে সাংবাদিকেরা তথ্য-প্রমান নিয়ে কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাদের ওপরে হামলা করা হয়। এসময় তথ্য-প্রমান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক গোলজার হানিফ জানান, ঘটনার রাতে তারা আহত অবস্থায় থানায় গিয়েছিলের। হামলার স্পটটি থানা থেকে ৫০০ গজের ভেতরে। তখন ওই প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যমেরা চেক করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের কথা বলা হলেও ওসি তা করেননি। এমনকি ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ও হামলার অভিযোগ নেওয়া হয়েছে মাদ্রাসার মোহতামিমের পক্ষ থেকে।
আরেক সাংবাদিক মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ হামলার ঘটনায় ইচ্ছাকৃত ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। হামলার ঘটনার কালক্ষেপণ করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের জোরাজুরিতে ঘটনার তিনদিন পর গতকাল চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারে সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে যায় পুলিশ। সিসি ফুটেজ পরিকল্পিত ভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে আইনগত ভাবে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি করেন।
এদিকে চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মোরশেদ জানান, ঘটনার পরদিন সকাল সাড়ে সাতটায় তিনজন ব্যক্তি এসে তাদের ম্যানেজারে রুম থেকে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ক্যামেরার হার্ডডিস্ক জোরপূর্বক খুলে নিয়ে গেলেও এই বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করেনি চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টার কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে এদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এতিমখানার মোহতামিম মোঃ শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আহত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শফিকের ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টে গিয়ে হামলা ও ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবির অভিযোগ তোলা হয়। সেই সময়ের সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয় শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে। তবে ওই ফুটেজে সাংবাদিকদের দেখা যায়নি। এমনকি কোন হামলার ঘটনাও ছিলোনা ওই ভিডিওতে।
সোনাইমুড়ি থানার এস আই কামাল বলেন ঘটনার ঘটনাস্থলে গিয়েছি সাক্ষীদের কথা শুনেছি এই বিষয়ে আপনারা ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন।
এই বিষয় সোনামনি থানার ওসির কবির হোসেন বক্তব্যের জন্য বারবার ফোন করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই।