নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এবং বিপুলসংখ্যক শিশুসহ মানুষের মৃত্যুর দায় সরকারকে নেওয়ার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এ সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে সংগঠনটির বিক্ষোভ মিছিল। পরে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, সিপিবির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশীদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় কমিটির মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক রজত হুদা ও সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
সমাবেশে আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ডেঙ্গু ও হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মানুষের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অথচ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু ও সাধারণ মানুষ অকালমৃত্যু ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিবছর নতুন করে জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি করলেও মশক নিধন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সহস্রাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে সমাবেশে দাবি করেন নেতারা। এসব মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশ মিছিলটি আটকে দেয়। পরে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বরাবর ছয় দফা প্রস্তাবসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে ছয় দফা প্রস্তাব
স্মারকলিপিতে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে হামের টিকা দেওয়া, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়।