নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক ‘বৈশ্বিক কর্মসপ্তাহ’-এর অংশ হিসেবে, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকার মোহাম্মদপুরের ওয়াই-ডব্লিউ-সি-এ (YWCA) মিলনায়তনে জাতীয় জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। জিসিক্যাপ (GCAP) বাংলাদেশ এবং এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক সংহতি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে মতবিনিময় এবং সম্মিলিত কার্যক্রম জোরদার করার উদ্দেশ্যে এই জনসম্মিলনে সুশীল সমাজ সংগঠন, নারী ও কৃষক আন্দোলন, মানবাধিকার ও শান্তি কর্মী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা একত্রিত হন।
জনসম্মিলনে সভাপতিত্ব করেন এ এস এম নাজির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন জিসিক্যাপ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী আব্দুল আউয়াল। মেহনাজ পারভীন মালা ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক সংহতি এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক সংকলিত জাতীয় অবস্থানপত্রটি উপস্থাপন করেন।
অংশগ্রহণকারীরা দারিদ্র্য, অসমতা, সামাজিক বর্জন, জলবায়ু ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। জনসম্মিলনটি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানায় যেন সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সম্পদের সংস্থানসহ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
জনসম্মিলন প্রধান আহ্বানগুলোর মধ্যে ছিল:
- সামাজিক সুরক্ষা, অত্যাবশ্যকীয় জনসেবা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিসর (fiscal space) তৈরির লক্ষ্যে টেকসই নয় এমন ও অন্যায্য বৈদেশিক ঋণ মওকুফ করা;
- উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর দ্বারা তাদের মোট জাতীয় আয়ের (GNI) ০.৭ শতাংশ ‘অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স’ (ODA) বা সরকারি উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে প্রদানের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা;
- উন্নয়ন সহযোগিতা ও জলবায়ু কার্যক্রমের স্বতন্ত্র দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এটা নিশ্চিত করা যে, উন্নয়ন সহায়তা যেন জলবায়ু অর্থায়নের অতিরিক্ত হয় এবং তা জলবায়ু অর্থায়নের সাথে গণনা বা তার বিকল্প হিসেবে গণ্য না করা হয়;
- দারিদ্র্য, অসমতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক সংহতি জোরদার করা;
- এমন একটি সর্বজনীন, অধিকার-ভিত্তিক ও পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যা কাউকে পেছনে ফেলে রাখবে না।
জনসম্মিলনটি জোর দিয়ে বলে যে, এসডিজি অর্জনের জন্য জাতীয় ও বৈশ্বিক উভয় পর্যায়েই শক্তিশালী সম্মিলিত কার্যক্রম প্রয়োজন; আর এর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সম্পদ, অধিকতর ন্যায্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা এবং প্রকৃত বৈশ্বিক সংহতি অপরিহার্য।
অংশগ্রহণকারীরা সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক সংহতি এগিয়ে নিতে এবং এসডিজি (SDGs) অর্জনের পথে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সুশীল সমাজ, সামাজিক আন্দোলন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।