উপজেলা সংবাদদাতা, দাগনভূঞায় : ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো।
নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও পরে আর তা বাস্তবায়ন হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেতুর অভাবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হতে হয়। বর্ষায় জনগণের দুর্ভোগ পৌঁছায় চরমে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে পাকা সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বহু বছর ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মহেশপুরসহ কয়েক গ্রাম ও জায়লস্কর ইউনিয়নের খুশিপুর এবং উত্তর নেয়াজপুর এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে ছোট ফেনী নদীর শাখা খাল (শ্মশানখালী খাল)। এ গ্রামগুলোর মানুষের চলাচলের জন্য কোনো পাকা সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছেন একটি নড়বড়ে সাঁকো। যা যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারে।
এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন। স্থানীয় বাসিন্দারা বাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, উপজেলা ও থানা অফিসে যেতে বাধ্য হন ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো ব্যবহার করে। অনেক সময় বৃদ্ধ ও শিশুরা পারাপারের সময় পড়ে আহত হন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সাঁকোর বাঁশগুলো নড়বড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছে। কোথাও বাঁশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বহুবার একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা নূরুল আমিন টিপু বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা কষ্ট করছি। স্কুলগামী শিশুদের জন্য এটি সবচেয়ে ভয়ংকর। একটু অসতর্ক হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কিছু দিন আগে এক শিক্ষার্থী পড়ে আহত হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী পমি আক্তার বলে, মাদ্রাসা যাওয়ার সময় সাঁকো পার হতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। অনেক ছাত্র-ছাত্রী পা পিছলে পরে আহত হয়েছে। শিশুরা একা সাঁকো পার হতে না পারায় ভোগান্তিতে পরতে হয় মা-বাবাকে।
কৃষক আবুল কাশেম বলেন, এখানকার আমরা কৃষকরা বিকেলে হাটে আমাদের উৎপাদিত ফসল/সবজি বিক্রির করার জন্য হাটে যেতে হয়। এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পারাপার করেই দিনে এবং রাতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, মিস্টার, রহিমা ও ছুট্টু মিয়া বলেন, কোনো মানুষ মারা গেলে মরদেহ এ পার থেকে ওই পারে দাফনের জন্য কলা গাছের ভেলা বানিয়ে পারাপার করতে হয়। সাঁকো সংলগ্ন মহেশপুরে মসজিদ রয়েছে। মুসল্লীরা ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত পারাপার হয়। বেশ কয়েক বছর আগে থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ওই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের কয়েক গ্রামের মানুষের দাবী, যেন পাকা সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
খুশিপুর এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হক সাইফুল বলেন, এখানে পাকা সেতু হাওয়া জরুরি। এবারের জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটের ক্যাম্পেইনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনের সাংসদ পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু মহোদয় আসলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি প্রস্তাব দিয়েছি পাকা সেতু নির্মাণের।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মাছুম বিল্লাহ বলেন, এপ্রোচের জন্য যথেষ্ট জায়গা না থাকায় ব্রীজের জন্য প্রস্তাব করা যায়নি। ব্রীজের জন্য প্রস্তাব করতে না পারার মূল কারণটি হচ্ছে এপ্রোচ রোড বা সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব। যেকোনো ব্রীজ বা সেতু নির্মাণের জন্য মূল কাঠামোর পাশাপাশি দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি করতে হয়, যা মূল রাস্তাকে ব্রীজের সাথে যুক্ত করে। যেহেতু এই এপ্রোচ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বা ভূমির প্রাপ্যতা নেই, তাই কারিগরি ও বাস্তবসম্মত দিক বিবেচনা করে ব্রীজের প্রস্তাব করা যায়নি।