মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী পৌরসভার ফয়েজিয়া এতিমখানার মোহতামিম শফিকুর রহমান। নিজের নামের আগে ব্যবহার করছেন ‘হাফেজ’ ও ‘মাওলানা’ পদবি। তবে অনুসন্ধানে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার প্রাথমিক গণ্ডি না পেরিয়েই তিনি এখন ফয়েজিয়া এতিমখানার প্রধান শিক্ষক (মোহতামিম)। একসময় ঢাকার একটি মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করা শফিক জাল সনদে মোহতামিম পদ বাগিয়ে নিয়ে সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, জমি দখল, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রাখা থেকে শুরু করে নানা দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
সম্প্রতি ফয়েজিয়া এতিমখানায় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি ‘ক্যাপিটেশন গ্রান্ট’-এর অর্থ আত্মসাতের সংবাদ গণমাধ্যমে আসার পর তার একের পর এক অপকর্মের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। দুর্নীতির খবর চেপে রাখতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব, মিথ্যা মামলা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
কওমি নিয়ম অনুযায়ী ‘হাফেজ’ হতে হলে পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ থাকতে হয়। ‘মাওলানা’ পদবির জন্য কওমি মাদরাসার সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রি ‘দাওরায়ে হাদিস’ কিংবা আলিয়া ধারার ‘কামিল’ পাস করতে হয়। কোনো স্বীকৃত সনদ ছাড়া এসব পদবি ব্যবহার কওমি নীতিমালার পরিপন্থী ও স্পষ্ট প্রতারণা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনাইমুড়ীর বাটরা মাখযানুল উলুম কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা শুরু করলেও হাফেজি শেষ করতে পারেননি শফিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এতিমখানার এক প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক বলেন, "শফিক হাফেজ কিংবা মাওলানা—কোনোটাই নন। তিনি ঢাকার একটি মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করতেন। সেখান থেকে চাকরি হারিয়ে ২০০২ সালে তার আপন মামাতো ভাই ও তৎকালীন শিক্ষক মইন উদ্দিনের মাধ্যমে মাত্র ১,২০০ টাকা বেতনে এই এতিমখানায় যোগ দেন।" পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নানা সুবিধা দিয়ে তিনি মোহতামিম পদটি বাগিয়ে নেন।
মাদরাসার ২০০৪ সালের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল বাতেন জানান, তার শিক্ষা জীবনে কখনো শফিককে কোনো ক্লাস নিতে দেখেননি। ২০০৬ সালে বাতেনের বাবা মারা গেলে এতিম হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রতি মাসে বেতন গুনে পড়তে হয়েছে। এ ছাড়া এতিমখানার জন্য মানুষ যেসব ছাগল দান করতেন, তা হাটে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয় না থাকলেও শফিক ‘ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি রেস্তোরাঁ ব্যবসা খুলেছেন।
এতিমখানার সাবেক শিক্ষক মাওলানা আমির হোসাইনের অভিযোগ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসের দায়িত্বহীনতার সুযোগ নিয়ে কাগজে-কলমে ভুয়া এতিম দেখিয়ে দীর্ঘদিন ক্যাপিটেশন গ্রান্টের টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এতিমখানার কাগজে-কলমে দেখানো ১৯৫ জন এতিমের অস্তিত্ব কখনোই ছিল না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক কর্মচারী স্বীকার করেন, মোহতামিমের নির্দেশে দান করা ছাগল হাটে নিয়ে বিক্রি করে সেই টাকা শফিককে বুঝিয়ে দিতেন তিনি। এতিমখানার সব আয়-ব্যয় একহাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন শফিক নিজেই। মাঝে মাঝে তদারকি করতেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোতাহার হোসেন মানিক।
সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের অনুদান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের বেতন মাসের পর মাস বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। মাওলানা আমির হোসাইন জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করার পর ৭ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই তিনি প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য হন। পরে পাওনা টাকা চাইলে তাকে গালিগালাজ করা হয়।
হেফজ বিভাগের সাবেক এক শিক্ষক জানান, বকেয়া বেতনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলায় ‘প্রাইভেট মাদ্রাসা এসোসিয়েশন’-এর পরিচয় দিয়ে একদল লোক গিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করে আসে। পাওনা টাকা আদায় করতে না পেরে বহু যোগ্য শিক্ষক মানসম্মানের ভয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানার নাম ভাঙিয়ে সরকারি জমি ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ দখল করে নিজের পরিবার নিয়ে থাকার জন্য একটি আবাসিক ভবন বানিয়েছেন শফিক। যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংলগ্ন কৃষি জমিতে যাতায়াত রুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে।
এদিকে অনিয়মের খবর প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করা হয় এবং থানায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণহীন চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়। শেষমেশ এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের ব্যানার দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোহতামিম ও সেক্রেটারির পদ দখল করে আছেন শফিক। কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ দেওয়া হয় কিংবা ধর্মীয় অনুভূতি উসকে দিয়ে কোণঠাসা করা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে এতিমখানায় গিয়ে মোহতামিম শফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে।
সোনাইমুড়ী পৌরসভার ফয়েজিয়া এতিমখানার মোহতামিম শফিকুর রহমান। নিজের নামের আগে ব্যবহার করছেন ‘হাফেজ’ ও ‘মাওলানা’ পদবি। তবে অনুসন্ধানে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার প্রাথমিক গণ্ডি না পেরিয়েই তিনি এখন ফয়েজিয়া এতিমখানার প্রধান শিক্ষক (মোহতামিম)। একসময় ঢাকার একটি মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করা শফিক জাল সনদে মোহতামিম পদ বাগিয়ে নিয়ে সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, জমি দখল, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রাখা থেকে শুরু করে নানা দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
সম্প্রতি ফয়েজিয়া এতিমখানায় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি ‘ক্যাপিটেশন গ্রান্ট’-এর অর্থ আত্মসাতের সংবাদ গণমাধ্যমে আসার পর তার একের পর এক অপকর্মের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। দুর্নীতির খবর চেপে রাখতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব, মিথ্যা মামলা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
কওমি নিয়ম অনুযায়ী ‘হাফেজ’ হতে হলে পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ থাকতে হয়। ‘মাওলানা’ পদবির জন্য কওমি মাদরাসার সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রি ‘দাওরায়ে হাদিস’ কিংবা আলিয়া ধারার ‘কামিল’ পাস করতে হয়। কোনো স্বীকৃত সনদ ছাড়া এসব পদবি ব্যবহার কওমি নীতিমালার পরিপন্থী ও স্পষ্ট প্রতারণা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনাইমুড়ীর বাটরা মাখযানুল উলুম কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা শুরু করলেও হাফেজি শেষ করতে পারেননি শফিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এতিমখানার এক প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক বলেন, "শফিক হাফেজ কিংবা মাওলানা—কোনোটাই নন। তিনি ঢাকার একটি মাদরাসায় বাবুর্চির কাজ করতেন। সেখান থেকে চাকরি হারিয়ে ২০০২ সালে তার আপন মামাতো ভাই ও তৎকালীন শিক্ষক মইন উদ্দিনের মাধ্যমে মাত্র ১,২০০ টাকা বেতনে এই এতিমখানায় যোগ দেন।" পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নানা সুবিধা দিয়ে তিনি মোহতামিম পদটি বাগিয়ে নেন।
মাদরাসার ২০০৪ সালের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল বাতেন জানান, তার শিক্ষা জীবনে কখনো শফিককে কোনো ক্লাস নিতে দেখেননি। ২০০৬ সালে বাতেনের বাবা মারা গেলে এতিম হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রতি মাসে বেতন গুনে পড়তে হয়েছে। এ ছাড়া এতিমখানার জন্য মানুষ যেসব ছাগল দান করতেন, তা হাটে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয় না থাকলেও শফিক ‘ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি রেস্তোরাঁ ব্যবসা খুলেছেন।
এতিমখানার সাবেক শিক্ষক মাওলানা আমির হোসাইনের অভিযোগ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসের দায়িত্বহীনতার সুযোগ নিয়ে কাগজে-কলমে ভুয়া এতিম দেখিয়ে দীর্ঘদিন ক্যাপিটেশন গ্রান্টের টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এতিমখানার কাগজে-কলমে দেখানো ১৯৫ জন এতিমের অস্তিত্ব কখনোই ছিল না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক কর্মচারী স্বীকার করেন, মোহতামিমের নির্দেশে দান করা ছাগল হাটে নিয়ে বিক্রি করে সেই টাকা শফিককে বুঝিয়ে দিতেন তিনি। এতিমখানার সব আয়-ব্যয় একহাতে নিয়ন্ত্রণ করতেন শফিক নিজেই। মাঝে মাঝে তদারকি করতেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোতাহার হোসেন মানিক।
সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের অনুদান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের বেতন মাসের পর মাস বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। মাওলানা আমির হোসাইন জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করার পর ৭ হাজার টাকা বকেয়া রেখেই তিনি প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য হন। পরে পাওনা টাকা চাইলে তাকে গালিগালাজ করা হয়।
হেফজ বিভাগের সাবেক এক শিক্ষক জানান, বকেয়া বেতনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলায় ‘প্রাইভেট মাদ্রাসা এসোসিয়েশন’-এর পরিচয় দিয়ে একদল লোক গিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করে আসে। পাওনা টাকা আদায় করতে না পেরে বহু যোগ্য শিক্ষক মানসম্মানের ভয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানার নাম ভাঙিয়ে সরকারি জমি ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ দখল করে নিজের পরিবার নিয়ে থাকার জন্য একটি আবাসিক ভবন বানিয়েছেন শফিক। যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংলগ্ন কৃষি জমিতে যাতায়াত রুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে।
এদিকে অনিয়মের খবর প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়, সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করা হয় এবং থানায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণহীন চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়। শেষমেশ এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের ব্যানার দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোহতামিম ও সেক্রেটারির পদ দখল করে আছেন শফিক। কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ দেওয়া হয় কিংবা ধর্মীয় অনুভূতি উসকে দিয়ে কোণঠাসা করা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে এতিমখানায় গিয়ে মোহতামিম শফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে।