রিপোর্টার, সদর : মাইজদী শহরের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রোডে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনদুর্ভোগ নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রাইম হাসপাতালের সামনের চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং সড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানোর কারণে পথচারীদের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এতে হাসপাতালমুখী রোগী, স্বজন ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে প্রশাসনের উদ্যোগে হাসপাতাল রোডের সদর হাসপাতালের সামনের এলাকা থেকে ডায়াবেটিক হাসপাতাল পর্যন্ত এবং মেইন রোডের সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্টরা অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সতর্ক করে দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
তবে উচ্ছেদ অভিযান চলার মধ্যেই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই অনেক ব্যবসায়ী আবার সেখানে দোকান বসিয়ে দেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে যখন উচ্ছেদ অভিযান চলছিল, তখন অন্য পাশে উচ্ছেদ করা স্থাপনা ও দোকানের সামগ্রী পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার যেন ফুটপাত দখল করে দোকান বসাতে না পারে, সে বিষয়টি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’
তাদের মতে, হাসপাতাল রোড ও মাইজদী মেইন রোডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলে ফুটপাত দখল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে যানজটও কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু একদিনের অভিযান নয়, যানজট ও ফুটপাত দখল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, নজরদারি এবং উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে মাইজদী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের পরিবেশও কিছুটা উন্নত হবে।