বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, নোবিপ্রবি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ৩য় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (MIET-2026)’।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আয়োজনে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে আগামীকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, ডেটা সায়েন্সসহ আধুনিক ও উদীয়মান প্রযুক্তির নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেছেন।
সম্মেলন পুনরীক্ষণ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে মোট ৩৩৫টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ২১১ জন বিশেষজ্ঞ রিভিউয়ারের কঠোর মূল্যায়ন শেষে মাত্র ৫৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নির্বাচিত করা হয়, যা মোট জমা পড়া পেপারের প্রায় ১৬ শতাংশ। নির্বাচিত গবেষণাপত্রের প্রোসেডিং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত 'Lecture Notes in Networks and Systems (LNNS)' সিরিজে প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ব গবেষণা পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে তুলে ধরবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দিন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত শিল্পের পাশাপাশি আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ প্রাপ্ত ১ হাজারের বেশি উদ্ভাবনকে বাস্তবমুখী পণ্য ও বাজারজাতকরণের উপযোগী করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।"
সম্মেলনের সভাপতি ও নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "গবেষণাকে কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধান ও জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োগ করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন অনন্য ভূমিকা রাখবে। গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন করবে।"
দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নির্বাচিত গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পাশাপাশি এআই ও সমসাময়িক প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন, মতবিনিময় ও কারিগরি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।