নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একইসঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর শ্রমিকদের অনশন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে জোটটি। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ঘেরাওয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদেও এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে নেতারা বলেন, লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তাদের দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চুক্তি থাকায় এ ইজারা চুক্তি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। বন্দর পরিচালনার নামে বিদেশি কোম্পানির হাতে কর্তৃত্ব তুলে দেওয়ার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
নেতারা আগামীকাল চট্টগ্রামে বন্দর শ্রমিক, চট্টগ্রাম স্কপ ও সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আহ্বানে আয়োজিত অনশন কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বন্দর ইজারা চুক্তির বিরোধিতা করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সমাবেশে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বন্দর ইজারা চুক্তি বাতিল না হলে শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক এবং বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভুঁইয়া, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা বেলাল চৌধুরী, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, জাতীয় গণফ্রন্টের নেতা আমিরুন নুজহাত মনিষা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কমিউনিস্ট লীগের নেতা শামীম ইমাম।