উপজেলা সংবাদদাতা, সুবর্ণচর : সুবর্ণচরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি বিশাল সবজি বাগান কেটে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী দুই কৃষক আনোয়ার হোসেন কাজল ও শাহাদাত হোসেন। এ ঘটনায় নিজেদের জমি ও ফসলের সুরক্ষা চেয়ে বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সুবর্ণচর উপজেলার ১ নম্বর চরজব্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরজব্বর গ্রামের ৯০ বাচ্চুর ওয়ালার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন কাজল ও শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের বাবা আব্দুল হামিদ ১৯৯০-৯১ সালে সরকার থেকে দুই একর জমি বন্দোবস্ত নেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সম্প্রতি জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে চলমান।
তাঁদের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর আদালত ওই জমির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে মনু মিয়ার ছেলে দেলোয়ার (৩০), লাতু মিয়ার ছেলে খোকন (৪৫), ইব্রাহিম (৩৫), সাদ্দাম (২৭) ও এসলাম (৩৮) দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভাড়াটে লোকজনের মাধ্যমে তাঁদের সবজি বাগান ধ্বংস করেন। ঘটনার দিন তাঁরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সিম, মরিচ, লাউ, কুমড়া, মুগডালসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজি কেটে ও মাটিচাপা দিয়ে নষ্ট করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বাগান ধ্বংসের পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
জমির মালিক আব্দুল হামিদ বলেন, বন্দোবস্ত পাওয়া ও ক্রয় করা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছি। সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। এখন আমার পুরো সবজি বাগান নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি এসবের কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হামিদ ও তাঁর পরিবারকে ওই জমি ভোগদখল করে চাষাবাদ করতে দেখে আসছেন তাঁরা। তবে জমি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।