উপজেলা সংবাদদাতা, বেগমগঞ্জ : সৌদি আরবে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মো. কামরুল জামানের (৩৭) মরদেহ ৪৫ দিন পর দেশে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত কামরুল জামান জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজীবাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
কামরুলের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালী জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, কুতুবপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইউছুপ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম লিটন, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত টিপু সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী সিহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল জামান। সেখানে তায়েফ শহরের হাওয়াইয়া এলাকায় একটি সুপার মার্কেটে কাজ করতেন তিনি।
৩০ আগস্ট ভোরে কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কামরুল। এ সময় এক সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে কর্মস্থলের সুপার মার্কেটের ভেতরে আশ্রয় নিলেও হামলাকারী সেখানে ঢুকে তাকে পরপর তিনটি গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কামরুলের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ ৪৫ দিন পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার সকালে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।