উপজেলা সংবাদদাতা, কোম্পানীগঞ্জ :: কাগজে-কলমে জমজমাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মজুতদারির ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে মিলছে না কোনো অস্তিত্ব। কারও পেশা মাটির ব্যবসা, কেউ বিক্রি করেন কাপড় ও জুতো, কেউ প্রবাসফেরত বেকার আবার কেউ থাকেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। অথচ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় এরাই এখন শীর্ষ সার ডিলার! কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে সার ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের এমন চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অর্থের বিনিময়ে তৈরি করা নামসর্বস্ব ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এসব ডিলারশিপ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির ছাড়পত্র পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বাস্তব কাঠামো নেই। চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরী হাটের ‘সালাম এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক আবু সুফিয়ান সম্প্রতি আমিরাত থেকে ফিরেছেন; নিজের কোনো দোকান না থাকলেও ডিলারশিপ পেয়ে বসেন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে। চরহাজারী ইউনিয়নের ডিলার নজরুল ইসলাম মূলত মুদি ও মৌসুমি মাটির ব্যবসায়ী। চরকাঁকড়ার কলাবাগান এলাকার ‘ফাহিম এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক মো. সাইফুল ইসলাম কিংবা চরফকিরা ইউনিয়নের যুবদল নেতা হাসান মাহমুদ শুভর ‘হাসান ট্রেডার্স’ কোনোটিরই নেই নির্ধারিত গুদাম বা সাইনবোর্ড। শুভ অকপটেই জানান, বরাদ্দ পাওয়ার পর এখন তিনি দোকান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
একই চিত্র অন্যান্য ইউনিয়নেও। রামপুরে ‘এনাম ট্রেডার্স’-এর নামে ডিলার হওয়া মো. এনাম মূলত কাপড়, জুতো ও হার্ডওয়্যার সামগ্রী বিক্রি করেন। মুছাপুরের ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর মালিক মো. মাহবুব উল্যাহ সায়েম সপরিবারে চট্টগ্রামে থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা পরিচালনা করেন; এলাকায় দোকান না থাকলেও ভবিষ্যতে চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া চরএলাহীর বিএনপি নেতা আমিনুল হক মাসুদের ক্ষেত্রেও মেলেনি সারের কার্যকর কোনো বিপণন ব্যবস্থা।ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়িতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।
মুছাপুর ইউনিয়নের মৌলভি বাজারের প্রতিষ্ঠিত সার ও কীটনাশক বিক্রেতা মো. আবদুস সালাম এ অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নীতিমালা মেনে বহু বছর ধরে ব্যবসা করা সত্ত্বেও তাঁকে বঞ্চিত করে এলাকা ছাড়া এক সিলিন্ডার ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে চরকাঁকড়ার দীর্ঘদিনের সার ব্যবসায়ী সিরাজ উল্যাহ জানান, শর্তের শতভাগ পূরণ করেও তাঁদের নাম বাদ দিয়ে কোনো অস্তিত্ব না থাকা ব্যক্তিদের চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন দায় এড়িয়ে জানান, তিনি কর্মস্থলে একেবারেই নতুন। ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্ত ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সম্পন্ন হয়েছে।