স্টাফ রিপোর্টার :: আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাইজদীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পদের সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ‘জিক্যাপ’ (GCAP) ও এনআরডিএসের যৌথ উদ্যোগে মাইজদীর মাস্টারপাড়া এনআরডিএস সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উদীচীর সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন এনআরডিএসের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল। সভায় বক্তব্য দেন মৈত্রী কৃষক সমিতির সভাপতি মনির আহমেদ, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর জেলা সমন্বয়ক বিটুল তালুকদার, গণমাধ্যমকর্মী আবু নাছের মঞ্জু ও জামাল হোসেন বিষাদ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজান তালুকদার, বন্ধনের নির্বাহী পরিচালক আমিনুজ্জামান মিলন, প্রাণের নির্বাহী পরিচালক নুরুল আলম মাসুদ, নারী অধিকারকর্মী রওশন আক্তার লাকী এবং তৃণমূল নারী প্রতিনিধি পান্না, খোদেজা আক্তার ও শিরিন আক্তারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, দারিদ্র্য মানুষের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে নতুন করে অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, যা দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও প্রকট করে তুলছে। দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তাঁরা বলেন, মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে দেশের মোট সম্পদের ৫৮ দশমিক ০৬ শতাংশ রয়েছে। এ বৈষম্য নিরসনে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ ও মজুত থাকলেও বেকারত্ব, কম মজুরি এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে অনেক মানুষ চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে পড়ছে।
সভা থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও স্বাবলম্বী, টেকসই সমাজ গঠনে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি অন্তত একজন নারীর আয় বা আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বসতবাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে আদর্শ খামারবাড়িতে রূপান্তর এবং মানুষকে আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।