উপজেলা সংবাদদাতা, কোম্পানীগঞ্জ :: একদিকে দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও সরকারি করের বোঝা; অন্যদিকে অস্থায়ী মার্কেটের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা। এমন পরিস্থিতিতে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা। পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘চায়না মার্কেট বা ডাকাইয়া মার্কেট' নামে অস্থায়ী বিপণিবিতান গড়ে ওঠায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। তাঁদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় প্রচারণায় ক্রেতাদের টানলেও এসব মার্কেটে নিম্নমানের ও নকল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এমন পণ্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
বসুরহাট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের এমপির ভবন, বাইপাস সড়ক ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মেলার আদলে এসব অস্থায়ী মার্কেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। বিদেশি পণ্যের সমাহার ও চায়না মার্কেটের পরিচিতি ব্যবহার করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। তবে পণ্যের প্রকৃত উৎস, গুণগত মান এবং বিক্রয়মূল্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু দাউদ জহির বলেন, আকর্ষণীয় প্রচারণার কারণে ক্রেতারা এসব মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু সেখানে বিক্রি হওয়া অনেক পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তুলনামূলক নিম্নমানের পণ্য বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আরডি মার্কেটের ব্যবসায়ী গাজী সিফাত মাহমুদ বলেন, একটি স্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ অস্থায়ী মার্কেটগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অন্যথায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন।
শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, এসব মার্কেটের ঝলমলে আলোকসজ্জা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে থাকলেও অস্থায়ী মার্কেটগুলোতে ব্যাপক আলোকসজ্জা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব মার্কেটের বৈধ অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, পণ্যের আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও মূল্যতালিকা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাঁরা বাজার মনিটরিং জোরদার এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ নেওয়াজ মোর্শেদ অপু বলেন, সকালে বসুরহাট বাইপাস সড়কসংলগ্ন চায়না মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনের কাগজপত্র চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি। তাই আপাতত মার্কেটটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বৈধ অনুমোদন দেখাতে পারলে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বসুরহাটের বাজারে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বৈধতা ও নিয়মকানুন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের মান যাচাই, অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্ত এবং অস্থায়ী মার্কেটগুলোর ব্যবসায়িক অনুমোদন খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘদিন ধরে বসুরহাটের অর্থনীতিতে অবদান রাখা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও সংকটে পড়বেন।