নিউজ ডেস্ক :: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে ডিবিসি নিউজের ক্রাইম চিফ রাজিব ঘোষকেও। বর্তমানে তারা ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মহাখালীতে অবস্থিত ডিবিসি কার্যালয় থেকে তাদের নিয়ে যায় ডিবি। পরে তাদের রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ডিবি বিষয়টি জানতে পারে এবং ঘটনাস্থলে যায়। পরে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজিব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের সঙ্গে ডিবি কথা বলছে। তাদের নিরাপদে হেফাজতে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকেও একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় তাকে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মূলত ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান পদ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ পদক্ষেপ নেয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, শিল্প খাতের অস্থিরতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে। সেদিন সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার জেদ্দা যাওয়ার কথা ছিল। তবে কী কারণে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে অনেকটা আড়ালে ছিলেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর জানাজায় অংশ নিতে তাকে জাতীয় প্রেসক্লাবে দেখা যায়।