উপজেলা সংবাদদাতা, চাটখিল :: চাটখিলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক জাতীয় সিপাহী বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার সকালে চাটখিল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট। এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিদেশি শক্তির আগ্রাসন ও বহিরাগত চক্রান্তের জাল ছিন্ন করেছিল। সিপাহী-জনতার সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত সুসংহত হয়। তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে আরও বলেন, আজকেও দেশকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের এই ভূখণ্ডের স্বাধীনতা রক্ষার্থে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৭ই নভেম্বরের চেতনাকে বুকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার সংহতি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে জাতীয় সংকটে দল-মত নির্বিশেষে একতাবদ্ধ হতে হয়। তরুণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহাসিক দিবসের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাটখিল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী এবং চাটখিল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিস আহমেদ হানিফ।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মুন্নাফ, চাটখিল পাঁচগাও মাহবুব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন খন্দকার, চাটখিল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান রানা এবং চাটখিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মইন উদ্দিন, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন রতন মুনা। এছাড়াও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ দেশাত্মবোধক ও অনুপ্রেরণামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।