নিউজ ডেস্ক :: আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে দেশের প্রায় ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন করব। ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখ এবং তৃতীয় ধাপ এপ্রিলের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের নির্বাচন মে মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে নির্বাচনের এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে রমজান শুরু হতে পারে। রমজানের পরপরই এসএসসি পরীক্ষা থাকায় নির্বাচনের ধাপগুলোর মধ্যে বিরতি রাখা হয়েছে।
প্রথম ধাপে আনুমানিক ১ হাজার (৫০টি কম-বেশি) ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ইসি সচিব বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং যেগুলো নির্বাচনের মেয়াদের আওতায় এসেছে, সেগুলোকে নির্বাচনের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, একটি নির্বাচন থেকে পরবর্তী নির্বাচনের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন নির্বাচনী সময়সূচির আওতায় আসে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে আবহাওয়া, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে অধিকাংশ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে পর্যায়ক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নির্বাচনী সময়সূচির আওতায় আসা ইউনিয়নের সংখ্যা বাড়বে।
কোনো উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা সেগুলো নির্বাচনী সময়সূচির আওতায় এলে ওই উপজেলার সব ইউনিয়নে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইসি সচিব জানান।
তিনি বলেন, কিছু ইউনিয়নে মামলা থাকায় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। তবে কোনো মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে সেসব ইউনিয়নও নির্বাচনের আওতায় আসতে পারে। এ কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। পরবর্তী ধাপগুলোর বিষয়েও সময় অনুযায়ী জানানো হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনী সরঞ্জামের মজুত যাচাই করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে এসব সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন না হলেও ব্যবহার করতে গিয়ে কিছু সরঞ্জাম নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো নতুন করে কেনা হবে।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করার পাশাপাশি ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য-এই তিন পদের জন্য তিন ধরনের ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। এ বিষয়ে বিজি প্রেস ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রস্তুতিও ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গত ১২ অক্টোবর কমিশন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সভায় সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, আগামী ২৭ মের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদপূর্ণ হয়ে গেছে। আইন অনুযায়ী এই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন ২০২৭ সালের মে মাসের ২৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।