উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : সুবর্ণচরে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে তিনটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। মঙ্গলবার ২০ আগস্ট রাত সাড়ে বারোটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।
সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া এক নম্বর ও দুই নম্বর ওয়ার্ডে ও পার্শ্ববর্তী চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেছ গ্রামে ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে।
এতে তিন গ্রামে ব্যাপক মানুষের কাঁচা ঘরবাড়ি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে পরিবারগুলো। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক জানান, মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে হঠাৎ শো শো ও বিকল শব্দ শুনতে পান। তিনি ভেবেছেন হয়তো আকাশে বিমান যাচ্ছে।
পরে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন তাঁর বাড়ির পাঁচশ গজ দূরে মটমটি গাছপালা ভেঙে পড়ছে। আর মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছে। কাঁদা ও হাঁটু পরিমাণ পানি ডিঙিয়ে গিয়ে দেখেন বিরানভূমি। সব কিছু তছনছ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঘরে অবশিষ্টাংশ ঝড়ে উড়িয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে পেলেছে। ঘুমন্ত এক বৃদ্ধাকে খাটসহ একটি বিলের মধ্যে ফেলেছেন। ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, আলমারি, রান্নাকরা ভাতের পাতিল ৫শ গজ দূরে পড়ে আছে।
গৃহিনী সামছুল নাহার বলেন, শো শো শব্দ শুনে জানালা খুলে দেখার চেষ্টা করি। মূহুর্তের মধ্যে ঘর উড়িয়ে নিয়ে। শোয়ার মধ্যে থাকা শ্বাশুড়ি ও সন্তানদের খুঁজতে থাকি পরে তাদেরকে পানির মধ্যে পায়। দিগ্বিদিক চিৎকার করতে থাকে। এক মুঠো চালও রেখে যায়নি, লন্ডভন্ড করে নিয়ে গেছে। নিজের ও সন্তানদের একটা জামা কাপড় নেই, তছনছ করে নিয়ে গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সিদ্দিক উল্ল্যাহ বলেন, রাতের টর্নেডো তিন গ্রামের আটটি বাড়ির ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে সহযোগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় গিয়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি দেখেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত শুষ্ক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।