উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : জেলা শহর মাইজদীর আদর হাসপাতালের সেপটিক ট্যাংক বিষ্ফোরণে ঘটনায় গুরুতর আহত ১জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এই ঘটনায় ৩ জন গুরুতর আহত হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত ব্যক্তির নাম মো:দুলাল উদ্দিন(২৩)। সে নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চর জুবিলী ইউনিয়নের ৯নং চর ব্যাগ্যার দিনমজুর মোঃ হেলাল উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। সে হাসপাতালে ফার্মেসি বিভাগে কর্মরত ছিল এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র।
নিহতের বাবা মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, গেল সপ্তাহে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করার জন্য বাড়িতে এসেছে। পানি শুকিয়ে গেলে এক মাস পর বাড়িতে আসবে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখার পাশাপাশি সে মাইজদী আদর হাসপাতালে ফার্মেসি বিভাগে চাকুরি করত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম ছেলে সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে অন্ধকার দেখছেন,তার ২টি বোনের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
আদর হাসপাতালের ফার্মেসির মালিক মো.আব্দুল কাদের বলেন, সেফটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে যায় দিনমজুর আশিক ও রাফেল। একপর্যায়ে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় আকস্মিক বিকট শব্দে পানির ট্যাংক বিস্ফোরণ হয়। এতে আমার ফার্মেসি দোকান ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে যায়। ওই সময় দোকানে থাকা কর্মচারি দুলাল, দিনমজুর আশিক ও রাফেল দগ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হয়। আজকে দুলাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলম ভূঁইয়া বলেন, মাইজদী হাসপাতালের সেফটি টাংকি বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফার্মেসির কর্মচারী দুলাল মারা যাওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।