• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২১ মে, ২০২৩

বেপরোয়া হয়ে উঠছে নৌপথের অপরাধীরা

নৌপথের অপরাধীরা যেন ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। তবে নদীপথে দায়িত্বে থাকা পুলিশ বলছে, দীর্ঘ নদীপথ পুরোপুরি নজরদারিতে নিয়ে আসতে আরও সময় লাগবে। তারপরও নানামুখী সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা নৌপথের অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে এনেছে। কয়েকটি অপারেশনে তারা নদীপথের কিছু ডাকাতকে ধরার কারণে বর্তমানে ডাকাতিও নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার মাঝিরঘাটসহ পদ্মানদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩ মে সাতজন নৌডাকাতকে আটক করেছে নৌপুলিশ। এসব ডাকাত রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের একটি গরুভর্তি ট্রলারে ডাকাতি করে। আটক ডাকাতরা শরীয়তপুর, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক গুলি, তিনটি পাইপগান, ১৫ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত স্পিডবোট জব্দ করে পুলিশ।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী থেকে অস্ত্রসহ আট ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার অভিযানের সময় ডাকাতরা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হাবিব ও কনস্টেবল আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আশেপাশের নৌশ্রমিকদের সহায়তায় ডাকাত দলের আটজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এছাড়াও নদীপথকে অপরাধীরা হত্যার পর লাশ লুকিয়ে ফেলার অন্যতম নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে অপরাধীরা লাশ বিকৃত করে ফেলে। ভারি কিছু বেঁধে লাশ ডুবিয়ে দেয়। যখন এসব লাশ উদ্ধার হয় তখন স্বাভাবিকভাবে এগুলো আর শনাক্ত করার সুযোগ থাকে না পুলিশের। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে।

নৌপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের নদীপথগুলো থেকে ৩৬০টি লাশ উদ্ধার করে তারা। এরমধ্যে ২৪০টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। বাকি ১২০ লাশের কোনও পরিচয় পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ৭৬ জনের লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এরমধ্যে ৫৫টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। বাকি ২১ জনের লাশের পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি তারা।

নৌপুলিশের কর্মকর্তারা মনে করেন, নদীতে ফেলা লাশ তাৎক্ষণিকভাবে ডুবে যায়। এটা যখন ভেসে ওঠে তখন পচে-গলে যায়। এতে লাশের পরিচয় ও ঘটনা আড়ালের সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণেই অপরাধীরা নদীতে লাশ ফেলে নিজেদের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে। নৌপথ নিরাপদ করতে চিহ্নিত স্থানগুলোতে সিসিটিভি ও লাইট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নদীপথের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীপথ বিরাট পথ। একবারে তো পুরো নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে নৌ পুলিশ চেষ্টা করছে পুরো নদীপথে নজরদারি জোরদার করতে। আগের চেয়ে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি আগে নদীপথে পাওয়া লাশগুলোর বেশিরভাগই অজ্ঞাতনামা থাকতো। এখন সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে। আমরা গর্ব করে বলতে পারি ডাকাতিটাও আগের তুলনায় অনেক কম হচ্ছে। কারণ বড় কিছু অপারেশনের মাধ্যমে অনেক ডাকাত ধরা পড়েছে।

নৌপুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দ্রুতগতিসম্পন্ন যে নৌযানগুলো আছে, সেগুলো রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলে কে কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে, সেটা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। রেজিস্ট্রেশন না থাকলে কে কোনটা চালাচ্ছে সেটা বোঝা যায় না।

নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, নৌপুলিশের ১১৭টা ইউনিট আছে। প্রত্যেক ইউনিটের জন্য একটা করে দ্রুতগতি সম্পন্ন নৌযান স্পিড বোট থাকলে ভালো হতো। তারপরও ৪০ থেকে ৪৩টির মতো স্পিড বোট আছে। সংকট তো আছেই। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

আরও পড়ুন

  • বিশেষ প্রতিবেদন এর আরও খবর