• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সুবর্ণচরে সংঘবদ্ধচক্রের ধর্ষণের শিকার মা-মেয়ে

উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : সুবর্ণচর উপজেলার ঘরের সিঁধ কেটে চুরি করতে ঢুকে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। চোর দল সংঘবদ্ধভাবে ওই গৃহবধূকে (৩০) ও তার মেয়েকে (১২) ধর্ষণ করে। এ সময় ঘর থেকে এক জোড়া করে নাকফুল ও কানের দুল এবং নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চরওয়াপদা ইউনিয়নে চরকাজী মোখলেছ গ্রামের একটি নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই নারী তিন সন্তানের জননী ও নির্যাতিত শিশু স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে হাতিয়া থেকে এসে চরকাজী মোখলেছ গ্রামে নতুন বাড়ি করে একজন দিনমজুর। একা ওই বাড়িতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ বসবাস করতেন তিনি। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন জায়গা কাজ করতে গেলে ২-৩ দিন পর বাড়ি ফিরে আসতেন ওই দিনমজুর। গত দুই দিন আগে কাজের সন্ধানে তিনি বাড়ির বাইরে যান। এ সময় বাড়িতে তিন মেয়েকে নিয়ে ছিলেন ওই গৃহবধূ। রাত ২টার দিকে ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে একজন। পরে সে ঘরের দরজা খুলে দিলে আরও দুই জন ভেতরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে দুই জন পালাক্রমে ওই গৃহবধূকে এবং একজন তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ওই গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। গভীর রাতে শিশুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গৃহবধূর বাঁধন খুলে দেয় এবং বিষয়টি চরজব্বার থানায় অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ করে বলেন, সিঁদকেটে একজন ঘরে ঢুকে দরজা খুলে দিলে বাকি দুইজনও ঘরে ঢুকে। পরে তারা আমাকে ও আমার মেয়ের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে এবং নির্যাতন চালায়। যাওয়ার সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুইজনকে আমি চিনেছি। পুলিশকে তাদের পরিচয় জানানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী (৪২) বলেন, আমি দিন মজুর। কাজের জন্য একেক দিন একেক এলাকায় থাকি। গতকাল আমি বাড়িতে ছিলাম না। গভীর রাতে তিনজনের সংঘবদ্ধ দল সিঁদকেটে ঘরে ঢুকে আমার স্ত্রী ও বড় মেয়েকে ধর্ষণ করে। ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রী ও মেয়ের নাকফুল-কানের দুলসহ নগদ সোয়া ১৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আমি তাদের শাস্তি চাই।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পোঁছায়। আজ মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর পর্যন্ত পুলিশ ওই স্থানে ছিল। সকালে ভুক্তভোগীদের থানায় আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে এবং আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গতরাতের অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃখজনক ঘটনায় সম্পৃক্ত সকল সন্দেহভাজনদেরকে গ্রেপ্তারপূর্বক আইন আমলে আনয়নে সর্বাত্মক কার্যক্রম চলমান । সকলকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকার বিনীত নিবেদন করছি। অপরাধীদের এক চুলও ছাড় হবে না। আশাকরি খুব দ্রুত এই বিষয়ে সুখবর দিতে পারবো। আমাদের একাধিক টিম এ ঘটনায় কাজ করছে।

উল্লেখ্য, সুবর্ণচর উপজেলাটি গণধর্ষণের জন্য দেশব্যাপী বারবার আলোচনায় আসছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন নোয়াখালীল সুবর্ণচর উপজেলায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস ওই দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সাথে তাদের অর্থদন্ডও করা হয়।

আরও পড়ুন

  • সুবর্ণচর এর আরও খবর