• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বর্তমান স্ত্রীকে কুবুদ্ধি দেওয়ায় সাবেক স্ত্রী-কন্যা-শাশুড়িকে কুপিয়েছে স্বামী

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : বর্তমান স্ত্রীকে কুবুদ্ধি দেওয়ায় সাবেক স্ত্রী-কন্যা-শাশুড়িকে কুপিয়েছে স্বামী আমির হোসেন (৪৫) । এ কাজে ব্যবহৃত ৩৫০ টাকার দা নতুন হওয়ায় নিজের কাছেই রেখে দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার এলাকার হোটেল আল-সিরাজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার ব্যবহৃত ব্যাগের ভিতর থেকে কাপড় দিয়ে মোড়ানো ধারালো দা ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আমির হোসেন সোনাইমুড়ীর অম্বরনগর ইউনিয়নের অম্বরনগর গ্রামের মৃত সফি উল্যাহর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর পূর্বে আমির হোসেনের সাথে ফাতেমা খাতুনের (৩৮) বিবাহ হয়। বিবাহের পর দাম্পত্য জীবনে ২ ছেলে এবং ১ মেয়ে জন্ম গ্রহন করে। সংসারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসামি আমির হোসেন প্রায়ই ফাতেমাকে মারধর করত। আমির হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রায় ৬/৭ বছর পূর্বে ফাতেমা তার সন্তানদের নিয়ে সেনবাগ থানার অজুর্নতলা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের ফাতেমার পিতার বাড়ির পশ্চিম পাশের জমিতে বাড়ি নির্মান করে বসবাস করছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে আমির হোসেন তার ভাই বেলাল হোসেনকে নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফাতেমা, তার মেয়ে রাহেলা আক্তার (২০) ও মা মাফিয়া বেগমকে (৬০) কুপিয়ে জখম করে। ফাতেমার ভাই স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে ফাতেমার ভাই আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার দ্বিতীয় আসামি বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করলেও প্রথম আসামি আমির হোসেন পলাতক ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে লক্ষীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় আমির হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত ছিল। সবশেষ গতকাল তাকে চট্রগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ঘটনা গুলোর সত্যতা স্বীকার করে। তার কাছ থেকে কুপিয়ে জখমে ব্যবহৃত দা, ছুরি জব্দ করা হয়েছে। সে ৩৫০ টাকায় নতুন দা টি ক্রয় করেছে। নতুন হওয়ায় মায়ায় সে দা টি কোথাও ফেলেনি। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় প্রথম স্ত্রী কুবুদ্ধি ও কুপরামর্শ দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করবো। আশাকরি খুব দ্রুত চার্জশিট দিতে পারবো।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইওয়ান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দীন, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিনসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

  • সোনাইমুড়ী এর আরও খবর