• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০২৪

পবিত্র জুমাতুল বিদায় বজরা শাহী মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তি কামনায় আজ শুক্রবার বাজরা শাহী জামে মসজিদে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা হিসেবে প্রতিবছর পালন করেন মুসলমানরা। রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখা আর ইবাদত-বন্দেগির অংশ হিসেবে এদিন নাজাত প্রার্থনা করেন।

মাহে রমজানের শেষ জুমা জুমাতুল বিদা ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদে মুসল্লিদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। রমজানের শপষ জুমায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই আসেন। বছরের সব সময় এ মসজিদে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও রমজানে তা আরও বেড়ে যায়।

শুক্রবার ৫ এপ্রিল রমজানের শেষ জুমায় মসজিদে সাধারণ জুমার থেকে অনেক বেশি মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। আর এ জুমার নামাজে ইমামতি করেন বজরা শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা মো. মীর আবুল কাশেম।

সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বজরা নামক স্থানে প্রধান সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে বিখ্যাত বজরা শাহী জামে মসজিদ অবস্থিত।

জানা যায়, দিল্লীর মোগল সম্রাটরা অবিভক্ত ভারতবর্ষে ৩০০ বছরের অধিককাল রাজত্ব করেন। এই দীর্ঘ সময়কালে মোগল সম্রাটরা এবং তাদের উচ্চপদস্থ আমলারা বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ইমারত, মসজিদ নির্মাণ করেন যা আজও স্থাপত্য শিল্পের বিরল ও উজ্জ্বল নির্দশন হিসেবে বিরাজমান।

এগুলোর মধ্যে আগ্রার তাজমহল, সেকেন্দ্রা, দেওয়ানে আম, আগ্রার দূর্গ, দিল্লীর লাল কেল্লা ও দিল্লির শাহী জামে মসজিদ অন্যতম। দিল্লীর বিখ্যাত জামে মসজিদের অনুকরণে মোগল জমিদার আমান উল্লাহ খান ১১৫৪ হিজরি, ১১৩৯ বাংলা মোতাবেক ১৭৪১ সালে অর্থাৎ প্রায় তিনশ বছর আগে বজরা শাহী মসজিদ নির্মাণ করেন যা আজও মোগল স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে।

জনশ্রুতি রয়েছে, এ মসজিদে কিছু মানত করলে তাতে শুভ ফল পাওয়া যায়। তাই দেখা যায় যে, দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি পাওয়ার আশায় অগণিত মানুষ প্রতিদিন এ মসজিদে টাকা পয়সা দান করেন। এছাড়া বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

ফেলী উপজেলায় থেকে আসা মো. কামাল হোসেন বলেন, বজরা শাহী মসজিদ মুসলিমদের অতীত ঐতিহ্যের অন্যতম একটি নিদর্শন। রমজানের শেষ জুমা জুমাতুল বিদা এখানে পড়ে ভালো লাগছে।

কুমিল্লা জেলার লাকসাম থেকে জুমার জুমাতুল বিদা নামাজ আদায় করতে আসা মহিউদ্দিন খোকন বলেন, আগেই নিয়ত করেছিলাম, রমজানের শেষ জুমার নামাজ বজরা শাহী মসজিদে পড়ব। তাই একটু আগেভাগেই রওনা দেই। এ মসজিদে নামাজ পড়তে পারলে ভালোলাগা কাজ করে। পাশাপাশি আমার একটা নিয়ত ছিল এই মসজিদে এসে নামাজ পড়বো এবং আমার মান্নতের টাকাটা মসজিদে দিব এই কারণে আমি এসেছি।

জুমাতুল বিদার নামাজ শেষ করে ঐতিহাসিক বজরা শাহী জামে মসজিদের পাঞ্জেগানা ইমাম মো. হাসান সিদ্দীকি বলেন, রমজানের শেষ জুমা জুমাতুল বিদা আজুমা উপলক্ষে আজকে উপচে পড়া ভীড় ছিল। রমজান মাসে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রায় ৫-৬ হাজারের মতো মুসল্লী ছিল। জুমার আজানের আগে থেকেই মুসুল্লিগণ মসজিদে সমবেত হতে শুরু করেন। জুমাতুল বিদার জামাতে প্রায় সকল মসজিদই ছিল পূর্ণ।উত্তর পাশে মসজিদের মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা আছে ওখানে এবং মাঠেও মুসল্লী পরিপূর্ণ ছিল। পবিত্র জুমাতুল বিদা।

রমজান মাসের শেষ শুক্রবার। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হলো পবিত্র জুমাতুল বিদা। জুমার নামাজে ইমামতি করেন বজরা শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা মো. মীর আবুল কাশেম। জুমাতুল বিদা উপলক্ষে বিশেষ মোনাজাত করেন নামাজ শেষে গোটা দেশ ও জাতির সুখ, সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মসজিদের পাশে কবরস্থানে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

  • সোনাইমুড়ী এর আরও খবর