• ঢাকা
  • বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০২৪

সোনাইমুড়ীতে দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভূলুয়া খাল এসব দেখার কেউ নেই

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়ী উপজেলার সেচ প্রকল্পের আওতায় পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খননে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসীনতায় সোনাইমুড়ী- শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ভূলুয়া খাল অস্তিত্ব হারিয়ে দখলদারদের কবলে। এসব দেখার কেউ নেই।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর, খালখেকোসহ স্থানীয় প্রভাবশালী মহল আঁতাত করে বহু বছর ধরে দখল ও সোনাইমুড়ী বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করছে। ফলে পানিপ্রবাহ ও খালের নাব্য হারিয়েছে। নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সোনাইমুড়ী চাটখিল উপজেলায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯৭ কিলোমিটার নামসর্বস্ব খননকাজ করলেও অজ্ঞাত কারণে সেচ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় এই ঐতিহ্যবাহী খালটি অন্তর্ভুক্ত করে খননকাজ পাউবোর নজরে ও দায়িত্বের বাইরে থেকে যায়। খালখেকোরা জবরদখল করে খালপাড়, খাল বন্ধ করে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন নির্মাণ করে সরকারি খাল দখল করে নিচ্ছে।

এই খালটি ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের পাহাড়ি ঢল থেকে নোয়াখালী-কুমিল্লা আংশিক অঞ্চলকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও কৃষি সেচ কাজে সুবিধার জন্য শত বছর আগে এই ভূলুয়া খালটি খনন করা হয়। সর্বশেষ ১৯৮০ সালের দিকে আংশিক সংস্কার করা হলেও দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছর ধরে সংস্কার ও খননের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ভূলুয়া খালের সোনাইমুড়ী অংশ অস্তিত্ব সংকটে। বর্ষা মৌসুমে খালে পানিপ্রবাহ না থাকায় সোনাইমুড়ী পৌর এলাকাসহ আশপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এক সময় মেঘনা ডাকাতিয়া নদী হয়ে ছোট-বড় ট্রলার, বড় বড় সাম্পান নৌকায় বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্যসামগ্রী নিয়ে এই খাল দিয়ে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মালপত্র পরিবহন করতেন। উপজেলার বিভিন্ন কৃষিকাজে এ খালের পানি ব্যবহার হতো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে খননের বাইরে থাকায় এবং সোনাইমুড়ী বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলায় খালের নাব্য, কৃষিকাজে পানি ব্যবহার ও পানিপ্রবাহ নেই বললেই চলে।

সরেজমিন জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে খালের পাড়ে দখলদারদের বিভিন্ন স্থাপনা ও ইমারত রক্ষা করে। অদৃশ্য ইশারায় ভূলুয়া খালের সোনাইমুড়ী অংশের খননকাজ বাদ পড়ে।

একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, খাল দখল করে নির্মিত বিভিন্ন ইমারত, ভবন রক্ষায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি খালের জায়গায় নির্মিত ভবনের প্রতি বর্গফুট রক্ষায় ২-৩ হাজার টাকা হারে কোটি টাকার তহবিল গঠনের ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন পৌরবাসীর অভিযোগ, খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা করে দখলে নেয় প্রভাবশালীরা। যে কারণে খালটি কাগজে কলমে থাকলেও দিন দিন খালের অস্তিত্ব বিলীন হচ্ছে। খালের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে অবৈধভাবে দখল হওয়া খাল উদ্ধার করলে কৃষকরা কৃষিজমিতে পানি সেচের সুবিধা পাবেন।

সোনাইমুড়ী পৌর মেয়র ভিপি নুরুল হক চৌধুরী জানান, ডাকাতিয়া খালের সঙ্গে মিলিত ভূলুয়া খালটি অনেকে দখল করে নিয়েছে। তবে বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে দখলমুক্ত করে খালটি খনন করার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি খাল দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আকাশ দত্তের মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম বলেন, কৃষি উন্নয়ন, অবাধ পানিপ্রবাহের জন্য (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) উপজেলার খাল খনন কর্মসূচি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। এর আগে চাটখিল এলাকার উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন করা হয়েছে। অনুরূপ সোনাইমুড়ী এলাকার প্রতিটি খালও খনন করা হবে। জোড়পুল এলাকার খাল খননে আপাতত স্থবিরতা থাকলেও আগামীতে এ অংশে খাল খননকাজ সম্পন্ন হবে। জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাচীন ভূলুয়া খালের সোনাইমুড়ী অংশের খনন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আরও পড়ুন

  • সোনাইমুড়ী এর আরও খবর