
বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, নোবিপ্রবি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে দক্ষ, সৃজনশীল, চিন্তাশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নোবিপ্রবিতে আয়োজিত নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই আগামী দিনের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিজ্ঞানী।’ জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের মেধা, যোগ্যতা ও সৃজনশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ভিন্নভাবে চিন্তা করা, নানা উপায়ে সমস্যার সমাধান করা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে। পাশাপাশি সহনশীলতা, ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের সুযোগ পায়। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিশ্ব সম্পর্কেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগ করে দেয়।
উপদেষ্টা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়। মেধাবী মানুষের পাশাপাশি মানবিক মানুষও তৈরি করতে হবে। এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যের কথাও ভাববে এবং দুর্বল মানুষ বা সমাজের কোনো সমস্যা দেখলে তা এড়িয়ে যাবে না।
সরকারের শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮০০ ডলার থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে নবীন শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ গঠনে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেখানেই যাও, এই দেশের জন্য কিছু করবে। মানুষ হিসেবে বড় হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের গড়ে তোলা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শিক্ষকদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সমাজ গড়ার কারিগর তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সমস্যা সমাধানের পথও দেখাতে হবে। এজন্য স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে কৃষি, পরিবেশ, পানি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এমন গবেষণা প্রয়োজন, যার ফলাফল শুধু জার্নালে প্রকাশিত হবে না; বরং বাস্তব জীবনে মানুষের উপকারে আসবে এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন।
অনুষ্ঠানের আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়। ২০০৬ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়।
আপনার মতামত লিখুন :